ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ডে অবস্থিত ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে দেবে না স্পেন। সোমবার মাদ্রিদের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, স্পেনের সার্বভৌমত্বের অধীনে থাকা এসব সামরিক ঘাঁটির ওপর দেশটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং এগুলোকে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ নেই।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানান, স্পেনে অবস্থিত ‘রোটা’ এবং ‘মোরন দে লা ফ্রন্টেরা’ ঘাঁটি দুটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান কোনো সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই ধরনের কোনো মোতায়েন বা অভিযানের জন্য স্পেন ভবিষ্যতে কোনো অনুমতি দেবে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবারেস আরও উল্লেখ করেন, স্পেনের সার্বভৌমত্বের অধীনে থাকা এসব ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র বা জাতিসংঘের সনদের পরিপন্থী কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। যদিও এই ঘাঁটিগুলো যৌথভাবে ব্যবহারের কিছু নিয়ম রয়েছে, তবে এর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেবল স্পেনের হাতেই ন্যস্ত। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বাহিনীর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি জানান, এ ধরনের অভিযান সম্পর্কে মাদ্রিদকে আগে থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেওয়া ‘একতরফা পদক্ষেপের’ কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে এবং বিশ্ব ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত ও প্রতিকূল করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। এ অবস্থায় সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেন। একই সাথে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলারও নিন্দা জানিয়েছে স্পেন।
রিপোর্টারের নাম 






















