ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

ঈদের শপিংয়ে ফেরার কথা ছিল বাবার, ফিরছে নিথর দেহ: বাহরাইনে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত

বাবার সাথে এবারের ঈদে শপিংয়ে যাওয়ার কথা ছিল ১৭ বছর বয়সী কিশোরী তাসমিম তামান্নার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাবা কথা দিয়েছিলেন, এবার ঈদের আগেই বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু সেই প্রতীক্ষার অবসান হলো এক মর্মান্তিক দুঃসংবাদে। সুদূর বাহরাইনে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তামান্নার বাবা, প্রবাসী বাংলাদেশি মো. তারেক (৪৮)। গত সোমবার বাহরাইনের আল হিদ ড্রাইডক এলাকায় আরব শিপবিল্ডিং অ্যান্ড রিপেয়ার ইয়ার্ডে কর্মরত অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার শিকার হন তিনি।

নিহত তারেক চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের পাহাড়েরগো বাড়ির মৃত ছায়েদুল হকের সন্তান। তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে প্রবাস জীবন অতিবাহিত করছিলেন। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে জীবনের অর্ধেকটা সময় প্রবাসে কাটালেও তার পুরো জগত জুড়ে ছিল স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান তামান্না। মেয়ের পড়াশোনার সুবিধার্থে তারা চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় বসবাস করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তারেক সাধারণত দেড়-দুই বছর পরপর দেশে আসতেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। এবার হজের কারণে ছুটি পেতে কিছুটা বিলম্ব হলেও মেয়েকে কথা দিয়েছিলেন সশরীরে উপস্থিত থেকে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেবেন। গত রবিবারও ভিডিও কলে মেয়ের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছিল তার। কিন্তু সোমবারের সেই আকস্মিক হামলা তামান্নার সাজানো পৃথিবীটাকে তছনছ করে দিয়েছে।

নিহতের মামাতো ভাই এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, তারেক ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক এবং পরিবারবৎস প্রাণ একজন মানুষ। বিদেশের কর্মব্যস্ততার মাঝেও সারাক্ষণ পরিবারের খোঁজখবর রাখতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।

বর্তমানে শোকাতুর পরিবারটির একমাত্র দাবি, সরকারি উদ্যোগে যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে তারেকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটির মুখ দেখতে এখন পথ চেয়ে বসে আছেন স্বজনরা। সন্দ্বীপের এই প্রবাসী সন্তানের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা: আট মাসে আয় কমেছে ৩.১৫ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে পরিস্থিতির অবনতি

ঈদের শপিংয়ে ফেরার কথা ছিল বাবার, ফিরছে নিথর দেহ: বাহরাইনে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

বাবার সাথে এবারের ঈদে শপিংয়ে যাওয়ার কথা ছিল ১৭ বছর বয়সী কিশোরী তাসমিম তামান্নার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাবা কথা দিয়েছিলেন, এবার ঈদের আগেই বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু সেই প্রতীক্ষার অবসান হলো এক মর্মান্তিক দুঃসংবাদে। সুদূর বাহরাইনে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তামান্নার বাবা, প্রবাসী বাংলাদেশি মো. তারেক (৪৮)। গত সোমবার বাহরাইনের আল হিদ ড্রাইডক এলাকায় আরব শিপবিল্ডিং অ্যান্ড রিপেয়ার ইয়ার্ডে কর্মরত অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার শিকার হন তিনি।

নিহত তারেক চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের পাহাড়েরগো বাড়ির মৃত ছায়েদুল হকের সন্তান। তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে প্রবাস জীবন অতিবাহিত করছিলেন। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে জীবনের অর্ধেকটা সময় প্রবাসে কাটালেও তার পুরো জগত জুড়ে ছিল স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান তামান্না। মেয়ের পড়াশোনার সুবিধার্থে তারা চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় বসবাস করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তারেক সাধারণত দেড়-দুই বছর পরপর দেশে আসতেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। এবার হজের কারণে ছুটি পেতে কিছুটা বিলম্ব হলেও মেয়েকে কথা দিয়েছিলেন সশরীরে উপস্থিত থেকে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেবেন। গত রবিবারও ভিডিও কলে মেয়ের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছিল তার। কিন্তু সোমবারের সেই আকস্মিক হামলা তামান্নার সাজানো পৃথিবীটাকে তছনছ করে দিয়েছে।

নিহতের মামাতো ভাই এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, তারেক ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক এবং পরিবারবৎস প্রাণ একজন মানুষ। বিদেশের কর্মব্যস্ততার মাঝেও সারাক্ষণ পরিবারের খোঁজখবর রাখতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।

বর্তমানে শোকাতুর পরিবারটির একমাত্র দাবি, সরকারি উদ্যোগে যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে তারেকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটির মুখ দেখতে এখন পথ চেয়ে বসে আছেন স্বজনরা। সন্দ্বীপের এই প্রবাসী সন্তানের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।