ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

‘জঙ্গলের আইন’ বরদাশত নয়: ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকার ঘোষণা চীনের

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরানের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বেইজিং একে ‘জঙ্গলের আইন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক ফোনালাপে বেইজিংয়ের এই অনড় অবস্থানের কথা জানান। ওয়াং ই বলেন, চীন ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ইরানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় চীন সবসময় পাশে থাকবে। পাশাপাশি দেশটির বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ফোনালাপে ওয়াং ই অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এই সংঘাত যেন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা এখন সময়ের দাবি।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে পৃথক এক আলোচনায় ওয়াং ই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উসকে দিয়ে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা লঙ্ঘন করছে। তিনি জানান, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাত নিরসনে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।

এদিকে, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গেও কথা বলেছেন ওয়াং ই। সেখানে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব আজ ‘জঙ্গলের আইন’-এর দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে কেবল সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের জোরে অন্য দেশের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো পরাশক্তিই এভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে নির্বিচার হামলা চালাতে পারে না।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য এই ইস্যুটিকে অবশ্যই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে হবে। সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

‘জঙ্গলের আইন’ বরদাশত নয়: ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকার ঘোষণা চীনের

আপডেট সময় : ১০:২৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরানের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বেইজিং একে ‘জঙ্গলের আইন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক ফোনালাপে বেইজিংয়ের এই অনড় অবস্থানের কথা জানান। ওয়াং ই বলেন, চীন ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ইরানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় চীন সবসময় পাশে থাকবে। পাশাপাশি দেশটির বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ফোনালাপে ওয়াং ই অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এই সংঘাত যেন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা এখন সময়ের দাবি।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে পৃথক এক আলোচনায় ওয়াং ই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উসকে দিয়ে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা লঙ্ঘন করছে। তিনি জানান, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাত নিরসনে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।

এদিকে, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গেও কথা বলেছেন ওয়াং ই। সেখানে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব আজ ‘জঙ্গলের আইন’-এর দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে কেবল সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের জোরে অন্য দেশের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো পরাশক্তিই এভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে নির্বিচার হামলা চালাতে পারে না।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য এই ইস্যুটিকে অবশ্যই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে হবে। সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।