ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

খণ্ডিত লাশের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শাহীনের ৪ দিনের রিমান্ড

রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত লাশের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত শাহীনকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে, তদন্তের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহীনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে মতিঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের বিচ্ছিন্ন হাত, পা ও মাথার মতো দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়; তার নাম ওবায়দুল্লাহ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের রুমমেট শাহীনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ জানান, অনৈতিক প্রস্তাব এবং ঝগড়া-বিবাদকে কেন্দ্র করে শাহীন ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে লাশ খণ্ডিত করে। তবে, নিহত ব্যক্তির দেহের একটি অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি, যা আমিনবাজারের সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন জানিয়েছে।

থানা-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করা হয় এবং রাত ৯টার পর খণ্ডিত দেহাবশেষ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। নিহত ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগে কাজ করতেন এবং অভিযুক্ত শাহীন হিরাঝিল হোটেলে কর্মরত ছিলেন। তারা দুজনেই মতিঝিলের কবি জসীম উদ্দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাতে সিগারেট ও খাবার আনা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ঘুমানোর সময় কথা বলা নিয়েও বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে শাহীন চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। এরপর লাশ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই বিপ্লব মামলা: মেনন-কামরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন প্রসিকিউশনের

খণ্ডিত লাশের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শাহীনের ৪ দিনের রিমান্ড

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত লাশের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত শাহীনকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে, তদন্তের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহীনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে মতিঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের বিচ্ছিন্ন হাত, পা ও মাথার মতো দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়; তার নাম ওবায়দুল্লাহ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের রুমমেট শাহীনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ জানান, অনৈতিক প্রস্তাব এবং ঝগড়া-বিবাদকে কেন্দ্র করে শাহীন ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে লাশ খণ্ডিত করে। তবে, নিহত ব্যক্তির দেহের একটি অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি, যা আমিনবাজারের সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন জানিয়েছে।

থানা-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করা হয় এবং রাত ৯টার পর খণ্ডিত দেহাবশেষ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। নিহত ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগে কাজ করতেন এবং অভিযুক্ত শাহীন হিরাঝিল হোটেলে কর্মরত ছিলেন। তারা দুজনেই মতিঝিলের কবি জসীম উদ্দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাতে সিগারেট ও খাবার আনা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ঘুমানোর সময় কথা বলা নিয়েও বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে শাহীন চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। এরপর লাশ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।