ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি ৯ মার্চ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে আনীত রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, এই মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ৯ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, মামলাটি বদলি হয়ে আদালতে নথিভুক্ত হয়েছে এবং আগামী ৯ মার্চ তারিখে অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ এই মামলার অভিযোগের আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অভিযোগ গঠনের পর্যায় থেকেই মামলাটি উচ্চতর আদালতে বদলি করা হলো।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে আদালতে মামলাটি দায়ের করেছিলেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। দীর্ঘ তদন্ত শেষে, একই বছরের ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ১৪ আগস্ট তারিখে অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

গত ১১ সেপ্টেম্বর তারিখে অভিযুক্তদের দেশত্যাগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরবর্তীতে, গত ১৪ অক্টোবর তারিখে পলাতক ২৫৬ জন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১১ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। গত ২১ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ অভিযোগ গঠনের আংশিক শুনানি সম্পন্ন হয়েছিল।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের কাছে দেশবিরোধী বক্তব্য প্রদান করেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাত করার নির্দেশ দেন। এই বক্তব্য পরবর্তীতে দেশজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: পৃথক ঘটনায় প্রাণ গেল ২ জনের

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি ৯ মার্চ

আপডেট সময় : ০৩:৩০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে আনীত রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, এই মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ৯ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, মামলাটি বদলি হয়ে আদালতে নথিভুক্ত হয়েছে এবং আগামী ৯ মার্চ তারিখে অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ এই মামলার অভিযোগের আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অভিযোগ গঠনের পর্যায় থেকেই মামলাটি উচ্চতর আদালতে বদলি করা হলো।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে আদালতে মামলাটি দায়ের করেছিলেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। দীর্ঘ তদন্ত শেষে, একই বছরের ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ১৪ আগস্ট তারিখে অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

গত ১১ সেপ্টেম্বর তারিখে অভিযুক্তদের দেশত্যাগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরবর্তীতে, গত ১৪ অক্টোবর তারিখে পলাতক ২৫৬ জন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১১ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। গত ২১ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ অভিযোগ গঠনের আংশিক শুনানি সম্পন্ন হয়েছিল।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের কাছে দেশবিরোধী বক্তব্য প্রদান করেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাত করার নির্দেশ দেন। এই বক্তব্য পরবর্তীতে দেশজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।