ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

চিকিৎসা অবহেলায় যুবকের মৃত্যু: মেঘনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবিক্ষোভ, স্মারকলিপি

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসায় অবহেলা, অনিয়ম ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা। রোববার সকালে উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন থেকে সম্প্রতি এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে, সম্প্রতি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ৩৪ বছর বয়সী রুবেল সিকদার কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। অভিযোগ উঠেছে, তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধের ব্যবস্থা না করেই ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এলাকাবাসী এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এই দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; হাসপাতালের ভেতরেই এক্স-রেসহ সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; মুমূর্ষু রোগীদের প্রাথমিক জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দিয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা; হাসপাতালের অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা; সার্বক্ষণিক একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া; জরুরি বিভাগে ২৪ ঘণ্টা এমবিবিএস চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা; রোগীদের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা আনতে একটি কার্যকর মনিটরিং কমিটি গঠন করা।

এ বিষয়ে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধন শেষে মেঘনার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে দিদারুল ইসলাম, সজিবুল ইসলাম, মো. শাওন, মো. সিফাত, শাওন আখন্দ, মো. পারভেজ, মোখলেসুর রহমান, ইয়াসমিন আক্তার, ইশান রহমান, শ্যামল সিকদার, মো. কালাম ও মো. রুবেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তারের নিকট হস্তান্তর করেন।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার জানান, তিনি স্মারকলিপি পেয়েছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ব্যাপক হামলা: আঞ্চলিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা

চিকিৎসা অবহেলায় যুবকের মৃত্যু: মেঘনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবিক্ষোভ, স্মারকলিপি

আপডেট সময় : ০৫:১৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসায় অবহেলা, অনিয়ম ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা। রোববার সকালে উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন থেকে সম্প্রতি এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে, সম্প্রতি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ৩৪ বছর বয়সী রুবেল সিকদার কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। অভিযোগ উঠেছে, তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধের ব্যবস্থা না করেই ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এলাকাবাসী এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এই দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; হাসপাতালের ভেতরেই এক্স-রেসহ সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; মুমূর্ষু রোগীদের প্রাথমিক জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দিয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা; হাসপাতালের অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা; সার্বক্ষণিক একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া; জরুরি বিভাগে ২৪ ঘণ্টা এমবিবিএস চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা; রোগীদের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা আনতে একটি কার্যকর মনিটরিং কমিটি গঠন করা।

এ বিষয়ে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধন শেষে মেঘনার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে দিদারুল ইসলাম, সজিবুল ইসলাম, মো. শাওন, মো. সিফাত, শাওন আখন্দ, মো. পারভেজ, মোখলেসুর রহমান, ইয়াসমিন আক্তার, ইশান রহমান, শ্যামল সিকদার, মো. কালাম ও মো. রুবেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তারের নিকট হস্তান্তর করেন।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার জানান, তিনি স্মারকলিপি পেয়েছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।