ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

সর্বোচ্চ নেতার শূন্যতা পূরণে প্রস্তুত ইরান: ক্ষমতা কাঠামো কতটা সুদৃঢ়?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণ নিঃসন্দেহে দেশটির রাজনীতিতে এক বিশাল প্রভাব ফেলবে। প্রায় ৩৭ বছর ধরে দেশটির অবিসংবাদিত শাসক হিসেবে তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতিতে গভীর ছাপ রেখে গেছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, খামেনির মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অনুপস্থিতিতেও ইরানের সুসংগঠিত রাষ্ট্রকাঠামো তার কার্যকারিতা বজায় রাখতে সক্ষম। দেশটির শাসনব্যবস্থা এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে সর্বোচ্চ নেতার পরিবর্তন সত্ত্বেও এর মৌলিক নীতি ও সংঘাতের ধারা অব্যাহত থাকে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি শুধু একজন ধর্মীয় নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তার দীর্ঘ শাসনামলে ইরান একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই পুরো কাঠামোটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন কোনো একক নেতার অনুপস্থিতি বা পরিবর্তন এর মূল ভিত্তিকে নড়বড়ে করতে না পারে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই ইরান শিয়া ধর্মগুরুদের দ্বারা শাসিত হয়ে আসছে। দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে রক্ষা করার লক্ষ্যেই গঠিত ও পরিচালিত। এই প্রতিষ্ঠানগুলোই মূলত রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ (বিশেষজ্ঞদের পরিষদ) নামের একটি সংস্থা ভোটের মাধ্যমে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে। এই পরিষদের সদস্যরা সাধারণত বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি গভীরভাবে অনুগত থাকেন। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, তারা এমন কাউকেই বেছে নেবেন যিনি খামেনির নীতি ও আদর্শের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।

তবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হলো ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পোরেশন (আইআরজিসি)। এটি কেবল একটি সামরিক বাহিনী নয়, এটি একটি বিস্তৃত আদর্শিক সংগঠন যার মূল লক্ষ্য ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে রক্ষা করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের চলমান লড়াই এবং দেশের ভেতরে যেকোনো ভিন্নমত দমনের ক্ষেত্রে আইআরজিসি অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণে আইআরজিসি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করবে। তারা নিশ্চিত করবে যেন নতুন নেতা তাদের স্বার্থ এবং ইসলামী শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখেন। ফলস্বরূপ, সর্বোচ্চ নেতার পরিবর্তন হলেও ইরানের আঞ্চলিক নীতি, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে বিদ্যমান সংঘাত বা দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিতে তাৎক্ষণিক কোনো বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। বরং বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

সর্বোচ্চ নেতার শূন্যতা পূরণে প্রস্তুত ইরান: ক্ষমতা কাঠামো কতটা সুদৃঢ়?

আপডেট সময় : ০৭:২০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণ নিঃসন্দেহে দেশটির রাজনীতিতে এক বিশাল প্রভাব ফেলবে। প্রায় ৩৭ বছর ধরে দেশটির অবিসংবাদিত শাসক হিসেবে তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতিতে গভীর ছাপ রেখে গেছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, খামেনির মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অনুপস্থিতিতেও ইরানের সুসংগঠিত রাষ্ট্রকাঠামো তার কার্যকারিতা বজায় রাখতে সক্ষম। দেশটির শাসনব্যবস্থা এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে সর্বোচ্চ নেতার পরিবর্তন সত্ত্বেও এর মৌলিক নীতি ও সংঘাতের ধারা অব্যাহত থাকে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি শুধু একজন ধর্মীয় নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তার দীর্ঘ শাসনামলে ইরান একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই পুরো কাঠামোটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন কোনো একক নেতার অনুপস্থিতি বা পরিবর্তন এর মূল ভিত্তিকে নড়বড়ে করতে না পারে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই ইরান শিয়া ধর্মগুরুদের দ্বারা শাসিত হয়ে আসছে। দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে রক্ষা করার লক্ষ্যেই গঠিত ও পরিচালিত। এই প্রতিষ্ঠানগুলোই মূলত রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ (বিশেষজ্ঞদের পরিষদ) নামের একটি সংস্থা ভোটের মাধ্যমে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে। এই পরিষদের সদস্যরা সাধারণত বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি গভীরভাবে অনুগত থাকেন। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, তারা এমন কাউকেই বেছে নেবেন যিনি খামেনির নীতি ও আদর্শের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।

তবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হলো ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পোরেশন (আইআরজিসি)। এটি কেবল একটি সামরিক বাহিনী নয়, এটি একটি বিস্তৃত আদর্শিক সংগঠন যার মূল লক্ষ্য ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে রক্ষা করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের চলমান লড়াই এবং দেশের ভেতরে যেকোনো ভিন্নমত দমনের ক্ষেত্রে আইআরজিসি অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণে আইআরজিসি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করবে। তারা নিশ্চিত করবে যেন নতুন নেতা তাদের স্বার্থ এবং ইসলামী শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখেন। ফলস্বরূপ, সর্বোচ্চ নেতার পরিবর্তন হলেও ইরানের আঞ্চলিক নীতি, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে বিদ্যমান সংঘাত বা দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিতে তাৎক্ষণিক কোনো বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। বরং বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।