ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

বগুড়ায় ভিজিএফ কার্ডের ‘ভাগ’ না পেয়ে ইউপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর

বগুড়ার শাজাহানপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চালের কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে এক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ তুলেছেন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা। রোববার দুপুরে উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে সরকারের বিশেষ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইউনিয়ন পরিষদ। এ লক্ষ্যে রোববার দুপুরে পরিষদ কার্যালয়ে ইউপি সদস্যদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা চলছিল। সভা চলাকালীন স্থানীয় বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী অতর্কিত সেখানে প্রবেশ করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে ইউপি সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এর একপর্যায়ে হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পরিষদের বারান্দায় ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকজন ইউপি সদস্যকে লাঞ্ছিত করে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে এবার মোট ৬ হাজার ৫৪৬ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী চলতি সপ্তাহেই এই চাল কার্ডধারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কথা।

খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ইউনিয়নে ৬৩৫ জন সুবিধাভোগীর জন্য চাল বরাদ্দ এসেছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে কার্ড বিতরণের উদ্দেশ্যে আমরা সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করছিলাম। এমন সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল বাশারের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন লোক এসে দাবি করেন, মোট কার্ডের অর্ধেক তাদের দিতে হবে। এই অযৌক্তিক দাবি মেনে না নেওয়ায় তারা চড়াও হয় এবং কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।”

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গরিব মানুষের জন্য আসা ঈদ উপহারের ভাগ কেন রাজনৈতিক নেতাদের দিতে হবে? আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল বাশার। তিনি ভাঙচুর বা কার্ডের ভাগ চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাদের ডেকেছিলেন বলেই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আমি শুধু অনুরোধ করেছিলাম, প্রতিটি ওয়ার্ডের মেম্বাররা যেন চাল বিতরণের সময় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করেন। অর্ধেক কার্ড চাওয়ার অভিযোগটি ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান জানান, ইউনিয়ন পরিষদে হামলার খবরটি তিনি অবগত হয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং ভাঙচুরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা: কখন, কতবার ও কেন রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা জরুরি?

বগুড়ায় ভিজিএফ কার্ডের ‘ভাগ’ না পেয়ে ইউপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

বগুড়ার শাজাহানপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চালের কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে এক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ তুলেছেন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা। রোববার দুপুরে উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে সরকারের বিশেষ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইউনিয়ন পরিষদ। এ লক্ষ্যে রোববার দুপুরে পরিষদ কার্যালয়ে ইউপি সদস্যদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা চলছিল। সভা চলাকালীন স্থানীয় বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী অতর্কিত সেখানে প্রবেশ করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে ইউপি সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এর একপর্যায়ে হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পরিষদের বারান্দায় ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকজন ইউপি সদস্যকে লাঞ্ছিত করে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে এবার মোট ৬ হাজার ৫৪৬ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী চলতি সপ্তাহেই এই চাল কার্ডধারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কথা।

খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ইউনিয়নে ৬৩৫ জন সুবিধাভোগীর জন্য চাল বরাদ্দ এসেছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে কার্ড বিতরণের উদ্দেশ্যে আমরা সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করছিলাম। এমন সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল বাশারের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন লোক এসে দাবি করেন, মোট কার্ডের অর্ধেক তাদের দিতে হবে। এই অযৌক্তিক দাবি মেনে না নেওয়ায় তারা চড়াও হয় এবং কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।”

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গরিব মানুষের জন্য আসা ঈদ উপহারের ভাগ কেন রাজনৈতিক নেতাদের দিতে হবে? আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল বাশার। তিনি ভাঙচুর বা কার্ডের ভাগ চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাদের ডেকেছিলেন বলেই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আমি শুধু অনুরোধ করেছিলাম, প্রতিটি ওয়ার্ডের মেম্বাররা যেন চাল বিতরণের সময় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করেন। অর্ধেক কার্ড চাওয়ার অভিযোগটি ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান জানান, ইউনিয়ন পরিষদে হামলার খবরটি তিনি অবগত হয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং ভাঙচুরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।