ইরানের বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করে দেশের শাসনক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নিতে দেশটির জনগণের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইরানিদের এই গণ-আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপর জোর দেন। ট্রাম্পের মতে, কয়েক প্রজন্মের মধ্যে ইরানি জনগণের সামনে এটিই সম্ভবত নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের একমাত্র ও শ্রেষ্ঠ সুযোগ।
ভিডিও বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যদি অবিলম্বে অস্ত্র ত্যাগ না করে, তবে তাদের ‘নিশ্চিত মৃত্যুর’ মুখোমুখি হতে হবে। তবে যারা অস্ত্র সমর্পণ করবে, তাদের জন্য ‘মুক্তি’ ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
চলতি জানুয়ারির শুরুর দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা এলো। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজার ৪৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় এর আগে ইরানকে বোমা হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের জন্য ইরান সরকারকে ‘বড় ধরনের মূল্য’ দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, তাদের জন্য ‘সহায়তা আসছে’।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা নমনীয় সুরও শোনা গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কণ্ঠে। কয়েক দিন আগে ট্রাম্প জানান, তেহরান প্রশাসনের কাছ থেকে তিনি এই মর্মে নিশ্চয়তা পেয়েছেন যে, ইরানে ‘হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হয়েছে’। এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু এখন ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচির দিকে সরে গেছে, যা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 























