দেশের প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি জানিয়েছেন, এই কার্ডটি হবে সর্বজনীন এবং পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ নারী সদস্য অর্থাৎ মা কিংবা বোনের নামে এটি ইস্যু করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল নাগরিক এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন।
শনিবার দুপুরে নাটোর সার্কিট হাউজে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রচলিত সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় থাকা বিভিন্ন ভাতা যেমন—বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা কিংবা গর্ভবতী ভাতার কার্ড বিতরণে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করার মতো ঘটনাও ঘটে। এই অসাধু চক্রের তৎপরতা বন্ধ করতে সরকার এখন একটি সমন্বিত বা ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম তৈরির দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে সব ধরনের ভাতার সুবিধা একটি মাত্র কার্ডের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ভাতার পরিমাণের বিষয়ে ফারজানা শারমিন জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন, যা বিদ্যমান অন্যান্য ভাতার তুলনায় অনেক বেশি। অধিক পরিমাণের এই ভাতার সুবিধা যেন প্রকৃত প্রাপকের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য ‘প্রক্সিমিটি টেস্ট’ বা স্কোরিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত—এই তিন শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্ড দেওয়া হবে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না; পর্যায়ক্রমে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তসহ দেশের প্রতিটি পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 

























