দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কবি জসীমউদ্দীন হল ইউনিটের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় বিস্ময় প্রকাশ করে হামিম দাবি করেছেন, তিনি এমন কোনো গুরুতর অপরাধ করেননি যার জন্য তাকে জনসমক্ষে এভাবে শোকজ করতে হবে।
শুক্রবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শোকজ নোটিশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, হলের দায়িত্বশীল পদে থেকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
শোকজ নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তা দেন শেখ তানভীর বারী হামিম। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, শোকজের সুনির্দিষ্ট কারণ তার জানা নেই। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে নেতাকর্মীরা তাকে ফোন করে কারণ জানতে চাইছেন।
ভিডিও বার্তায় হামিম জানান, নোটিশ পাওয়ার পর তিনি কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয় যে, শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত জানতে তাকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
হামিম আরও জানান, তিনি ধারণা করছেন গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল ও কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার কারণেই এই শোকজ করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। ছাত্রদলের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিগত ডাকসু নির্বাচনে তিনি সংগঠনের মনোনীত জিএস প্রার্থী ছিলেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপুল ভোট পেয়েছিলেন। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি রমজান উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য এই আয়োজন করেছিলেন।
লিখিত জবাব দেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে হামিম বলেন, “আমাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো নোটিশ না দিয়ে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকজ করা হয়েছে। আমি মনে করি না এমন কোনো বড় অপরাধ করেছি যে আমাকে এভাবে জনসমক্ষে শোকজ করতে হবে। তাই আমি কোনো লিখিত জবাব দেব না।”
তবে নিজের কর্মকাণ্ডে সংগঠনের কোনো ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়ে থাকলে তার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি প্রত্যাশা করেন তিনি। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থী ও কর্মীরা যদি তার কাজে কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে তার জন্যও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























