সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় চুরির গরু জবাই করে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক বিএনপি নেতার বাড়িতে ইফতার পার্টির আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইফতার মাহফিলে এলাকার সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন।
পরবর্তী সময়ে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ প্রচার হলে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করে আপস-মীমাংসা করা হয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নাজমুল ইসলাম জানান, ৫ রমজান রাত ৩টার দিকে পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুকাপন মাদরাসার পাশের মাঠ থেকে তার একটি ষাঁড় গরু চুরি হয়। খোঁজাখুঁজির সময় পাশের বাড়ির প্রবাসী বিএনপি নেতা মধু মিয়ার কেয়ারটেকার সাঈদি তাকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই মধু মিয়ার বাড়িতে কসাই ডেকে গরুটি জবাই করা হয়। সারা রাত রান্না শেষে ৬ রমজান বিকেলে ইফতার আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অংশ নেন।
ইফতারে গিয়ে নাজমুল ইসলাম জবাইকৃত গরুর দড়ি দেখে সন্দেহ করেন সেটি তার গরু। পরে স্থানীয়দের জানালে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা ফুটেজে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলে দাবি করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
৮ রমজান রাতে বৈঠকে সালিশের মাধ্যমে নাজমুল ইসলামকে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কেয়ারটেকার সাঈদিকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শুক্রবার বাদ জুম্মা সাংবাদিকরা বক্তব্য নিতে গেলে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কয়েছ আহমদ চৌধুরী ও যুবদল নেতা হুসাইন আহমদ বলেন, মধু মিয়া ওয়াসরুমে আছেন এবং শিগগিরই লন্ডনে যাবেন। তারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান হয়েছে বলে জানান এবং সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
নাজমুল ইসলাম বলেন, সালিশে গরুর মূল্য পেয়েছেন। গ্রামে আগেও গরু চুরি হয়েছে। সাঈদির ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক গয়াছ মিয়া জানান ইফতারে আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম, তবে এরকম কাণ্ড প্রত্যাশা ছিল না।
দলীয় সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান এসটিএম ফখর উদ্দিন জানান, পরে কথা বলবেন।
ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 




















