পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বঞ্চনা দূর করে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। শনিবার সকালে বান্দরবানের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান এ দাবি জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাহাড়ে বিদ্যমান বৈষম্য বজায় থাকলে দীর্ঘমেয়াদী সম্প্রীতি বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী মজিবর রহমান পাহাড়ের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদগুলোর নেতৃত্ব প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “বাঙালিদের ভোটে আপনারা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী নির্বাচিত হবেন, অথচ একজন বাঙালি যখন প্রতিমন্ত্রী বা চেয়ারম্যান হতে চায়, তখন আপনারা বিরোধিতা করেন। এই দ্বিমুখী আচরণ ও বৈষম্য চলতে থাকলে পাহাড়ে প্রকৃত সম্প্রীতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নিয়োগকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, এই নিয়োগে সংবিধান বা পার্বত্য চুক্তির কোনো লঙ্ঘন হয়নি। অতীতেও শেখ হাসিনা, বেগম খালেদা জিয়া এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অনেক অ-উপজাতীয় নেতা এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবি পূরণের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে পাহাড়ের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, চেয়ারম্যান পদে বাঙালিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করা। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, ১০৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ এবং সেনাক্যাম্পগুলোতে পুলিশের পরিবর্তে পুনরায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়।
পরিষদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ব্রিটিশ আমলের ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০’ এবং বর্তমান শান্তি চুক্তির কিছু ধারা বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এই ‘কালো আইন’ ও বিতর্কিত চুক্তি বাতিল করে দেশের অন্য ৬১ জেলার মতো পার্বত্য অঞ্চলেও বসবাসরত ৫৪ শতাংশ বাঙালি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের জেলা সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহজালালসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
রিপোর্টারের নাম 





















