ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: আত্মগোপনে থাকা ঘাতক হযরত আলী গৌরীপুরে গ্রেপ্তার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যতম প্রধান আসামি হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের ছিলিমপুর গ্রামের সোহাগবাজার মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও গৌরীপুর থানা পুলিশের একটি যৌথ দল এই অভিযান পরিচালনা করে।

গৌরীপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর ডিবি পুলিশের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। হযরত আলী নরসিংদীর মাধবদীতে ভ্যান চালাতেন। সেখানে কর্মরত গৌরীপুরের দুই শ্রমিকের সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি এই এলাকায় এসে আত্মগোপন করেছিলেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে হযরত আলী অত্যন্ত চতুরতার আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি নিজের ব্যবহৃত সিম কার্ডটি গৌরীপুর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ঈশ্বরগঞ্জের সোহাগী বাজার এলাকায় ফেলে আসেন, যাতে পুলিশ তাকে শনাক্ত করতে না পারে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; সোহাগবাজার মোড়ে চা পান করার সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আত্মগোপন করা বাড়ি থেকে আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মাধবদী উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দির মধ্যবর্তী একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত কিশোরীর বাবা স্থানীয় একটি টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরা ও তার সহযোগীরা কিশোরীকে বাড়ি ফেরার পথে মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার পরপরই অভিযানে নামে। হযরত আলীকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমিরাতে ইরানের হামলা: সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, পাল্টা জবাবের অধিকার দাবি

নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: আত্মগোপনে থাকা ঘাতক হযরত আলী গৌরীপুরে গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৩:১০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যতম প্রধান আসামি হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের ছিলিমপুর গ্রামের সোহাগবাজার মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও গৌরীপুর থানা পুলিশের একটি যৌথ দল এই অভিযান পরিচালনা করে।

গৌরীপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর ডিবি পুলিশের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। হযরত আলী নরসিংদীর মাধবদীতে ভ্যান চালাতেন। সেখানে কর্মরত গৌরীপুরের দুই শ্রমিকের সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি এই এলাকায় এসে আত্মগোপন করেছিলেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে হযরত আলী অত্যন্ত চতুরতার আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি নিজের ব্যবহৃত সিম কার্ডটি গৌরীপুর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ঈশ্বরগঞ্জের সোহাগী বাজার এলাকায় ফেলে আসেন, যাতে পুলিশ তাকে শনাক্ত করতে না পারে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; সোহাগবাজার মোড়ে চা পান করার সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আত্মগোপন করা বাড়ি থেকে আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মাধবদী উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দির মধ্যবর্তী একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত কিশোরীর বাবা স্থানীয় একটি টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরা ও তার সহযোগীরা কিশোরীকে বাড়ি ফেরার পথে মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার পরপরই অভিযানে নামে। হযরত আলীকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।