ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২৫ ফেব্রুয়ারি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

## পিলখানা হত্যাযজ্ঞ: নতুন তদন্তের মুখে সাবেক সচিব

ঢাকা: পিলখানা হত্যাযজ্ঞের প্রায় দেড় দশক পর ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসা এই উদ্যোগে দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে সাবেক এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্তের প্রস্তুতি চলছে।

বিস্তারিত:

২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯। দেশের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তর, পিলখানায় ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা। দীর্ঘSoো বছর পর, ঘটনার পেছনের রহস্য উন্মোচনের জন্য একটি নতুন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশন ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাবেক সচিব রাশেদ সাহেবের (ছদ্মনাম) ভূমিকা খতিয়ে দেখবে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি, কামাল (ছদ্মনাম) নামে পরিচিত রাশেদ সাহেবের এক ঘনিষ্ঠজন তার সঙ্গে দেখা করে পিলখানা ইস্যু নিয়ে নতুন করে তোড়জোড় শুরুর কথা জানান। তিনি জানান, সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই তদন্তের নির্দেশ এসেছে এবং রাশেদ সাহেবের ডিপার্টমেন্টের সংশ্লিষ্টতা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে। রাশেদ সাহেব, যিনি একসময় মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন, তিনি এই খবরে বেশ বিচলিত হয়ে পড়েছেন। তার রিটায়ারমেন্টের পর এই নতুন তদন্ত তার জন্য এক বিরাট ধাক্কা।

কামাল, যিনি কমিশনের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন, তিনি রাশেদ সাহেবকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি যেন তথ্যের ব্যাপারে অবগত থাকেন এবং তার কানে যেন সব তথ্য পৌঁছায়, সে ব্যাপারে তিনি নজর রাখবেন। রাশেদ সাহেবের দীর্ঘ কর্মজীবনের কথা উল্লেখ করে কামাল বলেন, “আপনি এত বছর সার্ভিস দিয়েছেন। বুঝতেই তো পারছেন ব্যাপার-স্যাপার।”

অন্যদিকে, রাশেদ সাহেবের স্ত্রী সুলতানা (ছদ্মনাম) তার ছেলে ও ছেলের বউয়ের হঠাৎ বিদায় নিয়ে কিছুটা অভিমানী। তবে, স্বামীর এই নতুন সংকট তাদের পারিবারিক জীবনে আরও এক নতুন দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে। সুলতানা অভিযোগ করেছেন যে, রাশেদ সাহেব ১৭ বছর ধরে তাকে ঠকিয়ে আসছেন এবং চার-চারটি মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। যদিও রাশেদ সাহেবের নিজের হিসাবে এই সংখ্যাটি ভিন্ন। তিনি মনে করেন, তার এই ধরনের সম্পর্কগুলো নেহাত সাময়িক ছিল এবং তিনি প্রশাসনিক দক্ষতার সঙ্গে সেগুলোকে আড়াল করে রেখেছেন।

রাশেদ সাহেবের আর্থিক অবস্থা বেশ সচ্ছল। ঢাকা শহরে তার মালিকানায় রয়েছে বিশাল সম্পত্তি। তবে, সম্প্রতি একটি হিসাববহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় তিনি ধরা খেয়েছেন এবং তাকে মাসে মাসে হাজিরা দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পিলখানা সংক্রান্ত নতুন তদন্ত তার জন্য আরও বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার দিন, অর্থাৎ ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে বিডিআর প্রধান বারবার সাহায্য চেয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করলেও সেনাবাহিনীকে অ্যাকশন নিতে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এর পেছনে কোনো প্রতিবেশী শক্তির প্রতিহিংসা ছিল কিনা, বা বেরুবাড়ি সীমান্তের পরাজয়ের প্রতিশোধই ছিল কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নতুন তদন্ত দলের পক্ষ থেকে রাশেদ সাহেবকে তাদের জিগাতলার অফিসে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে তার উপস্থিতি জরুরি বলে জানানো হয়েছে। এই আমন্ত্রণে রাশেদ সাহেব কিছুটা বিস্মিত হলেও তিনি সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘটনার পর রাশেদ সাহেব কিভাবে পিলখানা সংক্রান্ত সব তদন্তের ফাইলগুলোকে প্রয়োজনমাফিক “শোভনীয়” এবং “ভ্যানিশ” করে দিয়েছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তার এই ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং সংবাদমাধ্যমেও লেখালেখি হয়েছিল।

নতুন তদন্তের মুখে রাশেদ সাহেব কিছুটা ভীত হলেও তিনি মনে করেন, ঝড়ঝাপটা আগেও এসেছে এবং তিনি ঠিকই সামলে নিয়েছেন। তার মতো একজন “ঝানু অফিসার”কে কায়দা করা সহজ নয় বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। তবে, তার “ধীরগতিতে মেন্টাল স্ট্যাবিলিটি কমে যাচ্ছে” বলে চিকিৎসকের সতর্কবার্তা তাকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্মের নামে ফ্যাসিবাদ প্রতিহত করার ঘোষণা দিলেন প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি

২৫ ফেব্রুয়ারি

আপডেট সময় : ১১:৫৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## পিলখানা হত্যাযজ্ঞ: নতুন তদন্তের মুখে সাবেক সচিব

ঢাকা: পিলখানা হত্যাযজ্ঞের প্রায় দেড় দশক পর ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসা এই উদ্যোগে দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে সাবেক এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্তের প্রস্তুতি চলছে।

বিস্তারিত:

২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯। দেশের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তর, পিলখানায় ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা। দীর্ঘSoো বছর পর, ঘটনার পেছনের রহস্য উন্মোচনের জন্য একটি নতুন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশন ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাবেক সচিব রাশেদ সাহেবের (ছদ্মনাম) ভূমিকা খতিয়ে দেখবে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি, কামাল (ছদ্মনাম) নামে পরিচিত রাশেদ সাহেবের এক ঘনিষ্ঠজন তার সঙ্গে দেখা করে পিলখানা ইস্যু নিয়ে নতুন করে তোড়জোড় শুরুর কথা জানান। তিনি জানান, সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই তদন্তের নির্দেশ এসেছে এবং রাশেদ সাহেবের ডিপার্টমেন্টের সংশ্লিষ্টতা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে। রাশেদ সাহেব, যিনি একসময় মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন, তিনি এই খবরে বেশ বিচলিত হয়ে পড়েছেন। তার রিটায়ারমেন্টের পর এই নতুন তদন্ত তার জন্য এক বিরাট ধাক্কা।

কামাল, যিনি কমিশনের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন, তিনি রাশেদ সাহেবকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি যেন তথ্যের ব্যাপারে অবগত থাকেন এবং তার কানে যেন সব তথ্য পৌঁছায়, সে ব্যাপারে তিনি নজর রাখবেন। রাশেদ সাহেবের দীর্ঘ কর্মজীবনের কথা উল্লেখ করে কামাল বলেন, “আপনি এত বছর সার্ভিস দিয়েছেন। বুঝতেই তো পারছেন ব্যাপার-স্যাপার।”

অন্যদিকে, রাশেদ সাহেবের স্ত্রী সুলতানা (ছদ্মনাম) তার ছেলে ও ছেলের বউয়ের হঠাৎ বিদায় নিয়ে কিছুটা অভিমানী। তবে, স্বামীর এই নতুন সংকট তাদের পারিবারিক জীবনে আরও এক নতুন দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে। সুলতানা অভিযোগ করেছেন যে, রাশেদ সাহেব ১৭ বছর ধরে তাকে ঠকিয়ে আসছেন এবং চার-চারটি মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। যদিও রাশেদ সাহেবের নিজের হিসাবে এই সংখ্যাটি ভিন্ন। তিনি মনে করেন, তার এই ধরনের সম্পর্কগুলো নেহাত সাময়িক ছিল এবং তিনি প্রশাসনিক দক্ষতার সঙ্গে সেগুলোকে আড়াল করে রেখেছেন।

রাশেদ সাহেবের আর্থিক অবস্থা বেশ সচ্ছল। ঢাকা শহরে তার মালিকানায় রয়েছে বিশাল সম্পত্তি। তবে, সম্প্রতি একটি হিসাববহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় তিনি ধরা খেয়েছেন এবং তাকে মাসে মাসে হাজিরা দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পিলখানা সংক্রান্ত নতুন তদন্ত তার জন্য আরও বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার দিন, অর্থাৎ ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে বিডিআর প্রধান বারবার সাহায্য চেয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করলেও সেনাবাহিনীকে অ্যাকশন নিতে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এর পেছনে কোনো প্রতিবেশী শক্তির প্রতিহিংসা ছিল কিনা, বা বেরুবাড়ি সীমান্তের পরাজয়ের প্রতিশোধই ছিল কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নতুন তদন্ত দলের পক্ষ থেকে রাশেদ সাহেবকে তাদের জিগাতলার অফিসে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে তার উপস্থিতি জরুরি বলে জানানো হয়েছে। এই আমন্ত্রণে রাশেদ সাহেব কিছুটা বিস্মিত হলেও তিনি সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘটনার পর রাশেদ সাহেব কিভাবে পিলখানা সংক্রান্ত সব তদন্তের ফাইলগুলোকে প্রয়োজনমাফিক “শোভনীয়” এবং “ভ্যানিশ” করে দিয়েছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তার এই ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং সংবাদমাধ্যমেও লেখালেখি হয়েছিল।

নতুন তদন্তের মুখে রাশেদ সাহেব কিছুটা ভীত হলেও তিনি মনে করেন, ঝড়ঝাপটা আগেও এসেছে এবং তিনি ঠিকই সামলে নিয়েছেন। তার মতো একজন “ঝানু অফিসার”কে কায়দা করা সহজ নয় বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। তবে, তার “ধীরগতিতে মেন্টাল স্ট্যাবিলিটি কমে যাচ্ছে” বলে চিকিৎসকের সতর্কবার্তা তাকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।