ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিশুদের চোখে নতুন জগৎ: বইমেলায় বায়োস্কোপের মায়া আর শিল্পকলার আনন্দ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিনটি শিশুদের জন্য হয়ে উঠেছে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। ‘শিশু প্রহর’কে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। নানা রঙের বই, খেলার সামগ্রী আর প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাঝে ছোটদের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছুটির দিনের এই বিশেষ আয়োজন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা শিশু প্রহরের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব। একই সাথে, শিশু কর্নারে ‘কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার’ তাদের মন জয় করে নেয়। দিনব্যাপী এই থিয়েটারের গল্প পাঠের আসর, ইন্টারেক্টিভ পাপেট শো, পুতুল নাটক, ‘অপু ও দিপুর গল্প’ এবং বিশেষ করে বায়োস্কোপ প্রদর্শন শিশুদের এনে দেয় অনাবিল আনন্দ।

দুপুরের পর সরেজমিনে দেখা যায়, একটি ছোট বায়োস্কোপের সামনে শিশুদের উপচেপড়া ভিড়। কৌতূহলী চোখে তারা একে একে উঁকি দিচ্ছে বায়োস্কোপের ছোট্ট গোল জানালায়। ভেতরে কী আছে, সেই রহস্য উন্মোচনের তীব্র আগ্রহ তাদের।

প্রথমবারের মতো বায়োস্কোপ দেখে মুগ্ধ আট বছর বয়সী ইউসুফ আলম আয়ান। বাসাবো থেকে মামা রাসেল সরকারের সঙ্গে মেলায় আসা আয়ান বায়োস্কোপ দেখার পর কেবল ‘ধন্যবাদ মামা’ বলেই থামেনি, বরং তার চোখেমুখে ছিল বিস্ময়। সে জানায়, ‘আমি প্রথমবার দেখলাম। এটা বায়োস্কোপ। এর ভেতর ঘুড়ি উড়ছে, চরকি ঘুরছে – খুবই সুন্দর! আগে কখনো দেখিনি।’ মেলায় এসে কী কী বই কিনেছে জানতে চাইলে আয়ান মামার হাতে থাকা ‘৪০ হাদিস; শিশুতোষ গল্প’ বইটি দেখিয়ে দেয়।

আয়ানের মতো আরও অনেক শিশুই বায়োস্কোপের জাদুতে মুগ্ধ। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নার্সারির শিক্ষার্থী মানহা জুনাইরা জানায়, ‘ভেতরে মনে হলো ছবিগুলো নাচছে। গানের মতো নাচছিল।’ বাবা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আসা জুনাইরা তার ফুফাতো বোন, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া তাহরিমা আরিশাকেও সঙ্গে এনেছে। আরিশা বায়োস্কোপকে ‘ছোট একটা সিনেমা’র সঙ্গে তুলনা করে বলে, ‘আমি ভেবেছিলাম ভেতরে শুধু ছবি থাকবে, কিন্তু মনে হলো সবকিছু নড়ছে! খুবই সুন্দর। এবার প্রথমবার মামার সঙ্গে এসেই এটা দেখলাম।’

শিশুদের এমন বিস্ময়ভরা প্রশ্ন শুনে বায়োস্কোপ পরিচালনাকারী মোহাম্মদ রবিনও হাসিমুখে তাদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে এটি একটি পুরোনো দিনের বিনোদন মাধ্যম, যেখানে ছবি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখানো হয়। কিছু শিশু আবার বায়োস্কোপ দেখে নিজেদের মতো করে গল্প বানিয়ে ফেলছে। কেউ বলছে সেখানে পাখি উড়ছে, কেউ বলছে মেলায় নাগরদোলা ঘুরছে। এই ছোট্ট যন্ত্রটি যেন তাদের কল্পনার জগৎকে আরও রঙিন করে তুলছে।

সন্তানদের এই আনন্দ দেখে অভিভাবকেরাও উচ্ছ্বসিত। সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘স্মার্টফোন আর ট্যাবের যুগে এমন পুরোনো বিনোদন শিশুদের নতুন অভিজ্ঞতা দেয়। আমাদের ছোটবেলায় গ্রামে বায়োস্কোপ দেখতাম, আজ আমার সন্তানও সেটা দেখছে। ওকে দেখাতে পেরে ভালো লাগল।’

‘কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার’-এর প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান আশিক জানান, ‘অপু ও দিপুর গল্প’ পুতুল নাটকের মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, একে অপরকে সহযোগিতা করা, ঝগড়া থেকে বিরত থাকা এবং বই পড়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সকাল থেকে পাঠের আসর, ইন্টারেক্টিভ পাপেট শো, পুতুল নাটক ‘অপু ও দিপুর গল্প’ এবং বায়োস্কোপ প্রদর্শন চলছে, যা প্রতিদিন অব্যাহত থাকবে। মেলায় শিশুদের পাশাপাশি দর্শক-পাঠকের উপস্থিতি নিয়েও তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, রমজান মাস হওয়া সত্ত্বেও মানুষের উপস্থিতি বেশ ভালো, যা দিন দিন আরও বাড়বে।

শিশুদের আনন্দ কেবল থিয়েটার ঘিরেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ছিল তুমুল প্রতিযোগিতারও। সকাল সাড়ে ৯টায় বইমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এতে ক-শাখায় ৫৪০ জন, খ-শাখায় ৬২০ জন এবং গ-শাখায় ২৪৫ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম শেখ। এর এক ঘণ্টা পর বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বইমেলার মূলমঞ্চে এই প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বের উদ্বোধন করেন। এতে ক-শাখায় ২১০ জন, খ-শাখায় ২৭৯ জন এবং গ-শাখায় ৯৭ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে।

দুপুরের পর বনশ্রী থেকে আসা পাঁচ বছরের শিশু আনাইশা আসমিন ফিহা তার মা মুনতাহা আফনানের সঙ্গে মেলায় আসে। ফিহা মেলায় এসেই ‘পান্তাবুড়ি’, ‘পেচা ও ব্যাঙ’ নামক শিশুতোষ বই কেনে।

বাবুই প্রকাশনীর স্টলের জান্নাত বিনতে আনিস জানান, তাদের স্টলের কাজ এখনো শেষ হয়নি। দুপুর ১২টার পর থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনটি বই বিক্রি করেছেন। তিনি আশাবাদী যে মেলা এবার জমবে, যেমনটা সবাই ভেবেছিল তার চেয়েও ভালো হবে। রিফাইন পাবলিকেশনের মার্কেটিং ম্যানেজার আয়াত আহমেদ সজল বলেন, গতকাল পাঁচ থেকে সাতটি এবং আজ তিন থেকে চারটি বই বিক্রি করেছেন। প্রথম দিনের তুলনায় ক্রেতা সমাগম ভালো, তবে গতবারের চেয়ে কম হলেও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।

মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই শিশুতোষ অনুষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি, মেলার দ্বিতীয় দিন বিকেলে মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ : ফরিদা পারভীন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোহাম্মদ রোমেল এবং আলোচনায় অংশ নেন ড. আবু ইসহাক হোসেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কবি ও দার্শনিক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ভাষার মাসে শিল্পী ফরিদা পারভীনকে নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। লালনের গানের ভাষায় যে ভাবের শক্তি, তা ফরিদা পারভীনের হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল এবং তার গায়কীর মধ্য দিয়ে লালন আমাদের মাঝে নতুন করে হাজির হয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রতি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব

শিশুদের চোখে নতুন জগৎ: বইমেলায় বায়োস্কোপের মায়া আর শিল্পকলার আনন্দ

আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিনটি শিশুদের জন্য হয়ে উঠেছে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। ‘শিশু প্রহর’কে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। নানা রঙের বই, খেলার সামগ্রী আর প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাঝে ছোটদের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছুটির দিনের এই বিশেষ আয়োজন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা শিশু প্রহরের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব। একই সাথে, শিশু কর্নারে ‘কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার’ তাদের মন জয় করে নেয়। দিনব্যাপী এই থিয়েটারের গল্প পাঠের আসর, ইন্টারেক্টিভ পাপেট শো, পুতুল নাটক, ‘অপু ও দিপুর গল্প’ এবং বিশেষ করে বায়োস্কোপ প্রদর্শন শিশুদের এনে দেয় অনাবিল আনন্দ।

দুপুরের পর সরেজমিনে দেখা যায়, একটি ছোট বায়োস্কোপের সামনে শিশুদের উপচেপড়া ভিড়। কৌতূহলী চোখে তারা একে একে উঁকি দিচ্ছে বায়োস্কোপের ছোট্ট গোল জানালায়। ভেতরে কী আছে, সেই রহস্য উন্মোচনের তীব্র আগ্রহ তাদের।

প্রথমবারের মতো বায়োস্কোপ দেখে মুগ্ধ আট বছর বয়সী ইউসুফ আলম আয়ান। বাসাবো থেকে মামা রাসেল সরকারের সঙ্গে মেলায় আসা আয়ান বায়োস্কোপ দেখার পর কেবল ‘ধন্যবাদ মামা’ বলেই থামেনি, বরং তার চোখেমুখে ছিল বিস্ময়। সে জানায়, ‘আমি প্রথমবার দেখলাম। এটা বায়োস্কোপ। এর ভেতর ঘুড়ি উড়ছে, চরকি ঘুরছে – খুবই সুন্দর! আগে কখনো দেখিনি।’ মেলায় এসে কী কী বই কিনেছে জানতে চাইলে আয়ান মামার হাতে থাকা ‘৪০ হাদিস; শিশুতোষ গল্প’ বইটি দেখিয়ে দেয়।

আয়ানের মতো আরও অনেক শিশুই বায়োস্কোপের জাদুতে মুগ্ধ। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নার্সারির শিক্ষার্থী মানহা জুনাইরা জানায়, ‘ভেতরে মনে হলো ছবিগুলো নাচছে। গানের মতো নাচছিল।’ বাবা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আসা জুনাইরা তার ফুফাতো বোন, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া তাহরিমা আরিশাকেও সঙ্গে এনেছে। আরিশা বায়োস্কোপকে ‘ছোট একটা সিনেমা’র সঙ্গে তুলনা করে বলে, ‘আমি ভেবেছিলাম ভেতরে শুধু ছবি থাকবে, কিন্তু মনে হলো সবকিছু নড়ছে! খুবই সুন্দর। এবার প্রথমবার মামার সঙ্গে এসেই এটা দেখলাম।’

শিশুদের এমন বিস্ময়ভরা প্রশ্ন শুনে বায়োস্কোপ পরিচালনাকারী মোহাম্মদ রবিনও হাসিমুখে তাদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে এটি একটি পুরোনো দিনের বিনোদন মাধ্যম, যেখানে ছবি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখানো হয়। কিছু শিশু আবার বায়োস্কোপ দেখে নিজেদের মতো করে গল্প বানিয়ে ফেলছে। কেউ বলছে সেখানে পাখি উড়ছে, কেউ বলছে মেলায় নাগরদোলা ঘুরছে। এই ছোট্ট যন্ত্রটি যেন তাদের কল্পনার জগৎকে আরও রঙিন করে তুলছে।

সন্তানদের এই আনন্দ দেখে অভিভাবকেরাও উচ্ছ্বসিত। সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘স্মার্টফোন আর ট্যাবের যুগে এমন পুরোনো বিনোদন শিশুদের নতুন অভিজ্ঞতা দেয়। আমাদের ছোটবেলায় গ্রামে বায়োস্কোপ দেখতাম, আজ আমার সন্তানও সেটা দেখছে। ওকে দেখাতে পেরে ভালো লাগল।’

‘কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার’-এর প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান আশিক জানান, ‘অপু ও দিপুর গল্প’ পুতুল নাটকের মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, একে অপরকে সহযোগিতা করা, ঝগড়া থেকে বিরত থাকা এবং বই পড়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সকাল থেকে পাঠের আসর, ইন্টারেক্টিভ পাপেট শো, পুতুল নাটক ‘অপু ও দিপুর গল্প’ এবং বায়োস্কোপ প্রদর্শন চলছে, যা প্রতিদিন অব্যাহত থাকবে। মেলায় শিশুদের পাশাপাশি দর্শক-পাঠকের উপস্থিতি নিয়েও তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, রমজান মাস হওয়া সত্ত্বেও মানুষের উপস্থিতি বেশ ভালো, যা দিন দিন আরও বাড়বে।

শিশুদের আনন্দ কেবল থিয়েটার ঘিরেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ছিল তুমুল প্রতিযোগিতারও। সকাল সাড়ে ৯টায় বইমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এতে ক-শাখায় ৫৪০ জন, খ-শাখায় ৬২০ জন এবং গ-শাখায় ২৪৫ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম শেখ। এর এক ঘণ্টা পর বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বইমেলার মূলমঞ্চে এই প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বের উদ্বোধন করেন। এতে ক-শাখায় ২১০ জন, খ-শাখায় ২৭৯ জন এবং গ-শাখায় ৯৭ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে।

দুপুরের পর বনশ্রী থেকে আসা পাঁচ বছরের শিশু আনাইশা আসমিন ফিহা তার মা মুনতাহা আফনানের সঙ্গে মেলায় আসে। ফিহা মেলায় এসেই ‘পান্তাবুড়ি’, ‘পেচা ও ব্যাঙ’ নামক শিশুতোষ বই কেনে।

বাবুই প্রকাশনীর স্টলের জান্নাত বিনতে আনিস জানান, তাদের স্টলের কাজ এখনো শেষ হয়নি। দুপুর ১২টার পর থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনটি বই বিক্রি করেছেন। তিনি আশাবাদী যে মেলা এবার জমবে, যেমনটা সবাই ভেবেছিল তার চেয়েও ভালো হবে। রিফাইন পাবলিকেশনের মার্কেটিং ম্যানেজার আয়াত আহমেদ সজল বলেন, গতকাল পাঁচ থেকে সাতটি এবং আজ তিন থেকে চারটি বই বিক্রি করেছেন। প্রথম দিনের তুলনায় ক্রেতা সমাগম ভালো, তবে গতবারের চেয়ে কম হলেও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।

মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই শিশুতোষ অনুষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি, মেলার দ্বিতীয় দিন বিকেলে মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ : ফরিদা পারভীন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোহাম্মদ রোমেল এবং আলোচনায় অংশ নেন ড. আবু ইসহাক হোসেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কবি ও দার্শনিক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ভাষার মাসে শিল্পী ফরিদা পারভীনকে নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। লালনের গানের ভাষায় যে ভাবের শক্তি, তা ফরিদা পারভীনের হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল এবং তার গায়কীর মধ্য দিয়ে লালন আমাদের মাঝে নতুন করে হাজির হয়েছেন।