মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) সহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের চরউলাইল গ্রামে। জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল মাদকদ্রব্য উদ্ধারে সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে আলেকের ছেলে মো. লাবলু ওরফে লাবু মিয়াকে (৪৫) ২০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক লাবলুকে নিয়ে ফেরার পথে সইজুদ্দিনের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তার আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় কিছু লোক পুলিশের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় তারা আটক লাবলুকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এই সংঘর্ষে এসআই আনোয়ার হোসেন, কনস্টেবল মির্জা রেজাউল করিম এবং হাসান আলী আহত হন। আহত দুই কনস্টেবল বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, এবং এসআই আনোয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এই ঘটনার পরদিন শুক্রবার, এসআই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন। একটি মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আটক লাবলুকে আসামি করা হয়েছে। অপর মামলাটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ এই ঘটনায় পূর্ণিমা বেগম (২০), শাবানা (২৬), জাহানারা (২৩), আজিমুদ্দিন (৬৫), আমিনুর (২৭), অন্তর (২০), মৌ আক্তার (১৯), আসমা বেগম (৪৫) এবং আব্দুর রউফ ওরফে জুয়েল (২৬) সহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকেই হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল।
এদিকে, গ্রেপ্তারকৃতদের স্বজনদের দাবি, প্রকৃত হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও নিরপরাধ ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই নারীর কোলে শিশু সন্তান রয়েছে বলেও তারা জানান। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























