ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু, বিপাকে ভোলার ৬৫ হাজার জেলে

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়কালে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মাছের বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মৎস্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন উপকূলীয় এলাকায় কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে উপকূলীয় জেলা ভোলার সাতটি উপজেলার প্রায় ৬৪ হাজার নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জেলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চরফ্যাশন উপজেলায়, যার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার। কর্মহীন হয়ে পড়া এসব জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল প্রদান করা হবে। ভোলার মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে জেলেরা তাদের জাল ও ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরতে শুরু করেছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে চাল বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে জেলেরা সরকারি এই আইন মেনে নিলেও সাগরে বিদেশি ট্রলারের অনুপ্রবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে যেন প্রতিবেশী দেশের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ শিকার করতে না পারে, সে জন্য কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর নজরদারি আরও বাড়ানো হোক। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচাতে প্রতিটি উপজেলায় হচ্ছে আধুনিক পরীক্ষা কেন্দ্র

সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু, বিপাকে ভোলার ৬৫ হাজার জেলে

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়কালে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মাছের বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মৎস্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন উপকূলীয় এলাকায় কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে উপকূলীয় জেলা ভোলার সাতটি উপজেলার প্রায় ৬৪ হাজার নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জেলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চরফ্যাশন উপজেলায়, যার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার। কর্মহীন হয়ে পড়া এসব জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল প্রদান করা হবে। ভোলার মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে জেলেরা তাদের জাল ও ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরতে শুরু করেছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে চাল বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে জেলেরা সরকারি এই আইন মেনে নিলেও সাগরে বিদেশি ট্রলারের অনুপ্রবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে যেন প্রতিবেশী দেশের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ শিকার করতে না পারে, সে জন্য কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর নজরদারি আরও বাড়ানো হোক। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।