নরসিংদীর মাধবদীতে এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণ, বাবার সামনে থেকে জোরপূর্বক অপহরণ এবং পরবর্তীতে নির্মমভাবে হত্যার বর্বরোচিত ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। তিনি এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, একজন পিতাকে জিম্মি করে তার কিশোরী সন্তানকে ধর্ষণ এবং হত্যা করার মতো বর্বর, নৃশংস ও অমানবিক অপরাধ আর কী হতে পারে? শিশু ও নারীর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অবিলম্বে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত, গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। মাওলানা জালালুদ্দীন পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের অপরাধে শাস্তি প্রকাশ্যে কার্যকর করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
মহাসচিব আরও বলেন, আইন অনুযায়ী নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে বিচারহীনতা, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া এবং তদবিরের কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি।
তিনি দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নিহত কিশোরীর পরিবারকে অবিলম্বে উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ, নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছে, এমন নৃশংস অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সুদৃঢ় করা এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিতে। এছাড়াও, মসজিদভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন এবং জেলাসহ সকল পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে ইমাম, খতিবসহ ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 

























