রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে (১৪) নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রহস্যের জট খুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জেরেই বিন্তিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে সিয়াম ওরফে ইমন (১৯)। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো: মাসুদ আলম দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিহত বিন্তি রায়েরবাজার হাই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। বুধবার রাতে ছোট ভাইকে মসজিদে রেখে কেনাকাটার জন্য বের হলে হাজারীবাগের হায়দার হোটেল সংলগ্ন একটি অন্ধকার গলিতে ওত পেতে থাকা সিয়াম তার ওপর হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে বিন্তি সিয়ামের সঙ্গে হাঁটছিল। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সিয়াম ধারালো ছুরি দিয়ে বিন্তিকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সিকদার মেডিকেল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সিয়ামের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকু এবং ঘটনার সময় পরিহিত রক্তমাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম স্বীকার করেছে যে, বিন্তি একই স্কুলে পড়ার সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি বিন্তি সেই সম্পর্ক রাখতে অস্বীকৃতি জানালে সিয়ামের মধ্যে ক্ষোভ জন্মায় এবং প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
ডিসি মাসুদ আলম বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। এটি একটি পরিষ্কার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।”
এদিকে, একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে বিন্তির পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিন্তির বাবা বেল্লাল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েটা শুধু বাজারে গিয়েছিল, কিন্তু ফিরল লাশ হয়ে। আমি এই পাষণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি চাই।” হাজারীবাগ থানায় এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























