বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সাবেক নেতা সদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে আদালত পাড়া। তাঁর মুক্তি এবং আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন আইনজীবীরা। এর ফলে জেলার বিচারিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শত শত বিচারপ্রার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামসহ বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচির কারণে কোনো আদালতের শুনানিতে অংশ নেননি আন্দোলনকারী আইনজীবীরা। এদিকে, কয়েকজন আইনজীবী আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিতে চাইলে আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়েন এবং একপর্যায়ে এজলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশসহ যৌথ বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আদালত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইনজীবীদের এই কর্মবিরতির ফলে বিচারপ্রার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ শুনানির অপেক্ষায় থাকলেও কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।
এদিকে, আদালতের অচলাবস্থা নিরসনে দুপুরে উদ্যোগ নিয়েছেন মহানগর দায়রা জজ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে তিনি তিনজন জ্যেষ্ঠ ও নিরপেক্ষ আইনজীবীকে আলোচনার জন্য তাঁর দপ্তরে ডাকেন। বৈঠকে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান বাচ্চু, সাবেক অর্থ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির মামুন এবং অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন আকন অংশ নেন। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও বৈঠকের চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
আন্দোলনরত আইনজীবীদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমিতির সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবিলম্বে তাঁর মুক্তি এবং আইনজীবীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আদালত চত্বরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 























