বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যুদের নৃশংস হামলার শিকার হয়ে শাহাদত হোছাইন খোকন নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার অদূরে সাগরে এই দস্যুতার ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাদত উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের মনসুর আলী হাজীরপাড়ার মৃত মো. বাদশার ছেলে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন আগে উত্তর ধূরুং আকরবলী ঘাটের জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন ‘এফবি আজুফা আকতার মানু’ নামের একটি ফিশিং ট্রলার ১৯ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায়। বুধবার দুপুরে ট্রলারটি জলদস্যুদের কবলে পড়ে। দস্যুরা ট্রলার লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে শাহাদত হোছাইন গুরুতর আহত হন। পরে অন্য একটি বোটের সাহায্যে তাকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পথে তার মৃত্যু হয়।
ট্রলারের মালিক জসিম উদ্দিন জানান, বিকেলে সাগরে থাকা অন্য একটি ট্রলিং বোট থেকে ফোনের মাধ্যমে তিনি ডাকাতির খবর পান। দস্যুদের গুলিতে তার বোটের এক জেলে নিহত হওয়ার সংবাদে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, সাগরে ক্রমাগত দস্যুতা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি অভিযোগ করেন, গত এক মাস ধরে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার মিলছে না। দস্যু আতঙ্কে সাধারণ জেলেরা এখন সাগরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের শীর্ষ মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কুতুবদিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত জেলের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























