ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলা ফেরানোই নতুন মন্ত্রীর মূল চ্যালেঞ্জ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে পাসের হার ও জিপিএ ৫-এর জোয়ার বইলেও শিক্ষার গুণগত মান এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ডবল জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের বড় অংশের অকৃতকার্য হওয়া এই ধসেরই প্রমাণ। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর সাথে রয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. মাহদী আমিন।

শিক্ষার মানের করুণ দশা বিশ্বব্যাংকের গত বছরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের একাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর শিখন মান সপ্তম শ্রেণির সমপর্যায়ের। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা ১৮ বছর বয়সে ১১ বছরের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নিলেও প্রকৃতপক্ষে মাত্র ৬.৫ বছরের সমতুল্য জ্ঞান অর্জন করছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী মনে করেন, দীর্ঘদিনের বিনিয়োগহীনতা, সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা শিক্ষার মানকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে।

নতুন সরকারের তিন অগ্রাধিকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা জানিয়েছেন: ১. শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে উপযোগী পরিবেশ তৈরি। ২. জাতীয় কারিকুলাম রিভিউ ও যুগোপযোগী পরিমার্জন। ৩. কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন।

পাশাপাশি তিনি ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করার এবং ১৮০ দিনের একটি রোডম্যাপ প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন।

চ্যালেঞ্জের বহুমাত্রিক রূপ শিক্ষামন্ত্রী ২০০১-২০০৬ মেয়াদে নকল নির্মূলে সফল হলেও এবারের প্রেক্ষাপট অনেক বেশি জটিল। তাঁর সামনে থাকা প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো:

  • নিয়োগ ও এমপিও জটিলতা: নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এবং অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের এমপিওভুক্তির দাবি মেটানো।
  • প্রশাসনিক শৃঙ্খলা: বদলি-পদায়ন, বই ছাপানো এবং শিক্ষা প্রকল্পগুলোতে জেঁকে বসা দুর্নীতির জাল ছিন্ন করা।
  • ডিজিটাল বৈষম্য: গ্রামীণ ও শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগের যে বিস্তর ফারাক, তা দূর করা।
  • উচ্চশিক্ষার মান: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং মানসম্মত গবেষণার পরিবেশ তৈরি করে ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বা মেধাপাচার রোধ করা।

সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদের মতে, খণ্ডিত লক্ষ্যের চেয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন। এবারই প্রথম দুই মন্ত্রণালয়কে একজন মন্ত্রীর অধীনে আনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে যে গতি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে মন্ত্রী কতটা সফল হন—সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে রক্তাক্ত ৪৮ ঘণ্টা: সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন নিহত

শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলা ফেরানোই নতুন মন্ত্রীর মূল চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০১:০৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে পাসের হার ও জিপিএ ৫-এর জোয়ার বইলেও শিক্ষার গুণগত মান এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ডবল জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের বড় অংশের অকৃতকার্য হওয়া এই ধসেরই প্রমাণ। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর সাথে রয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. মাহদী আমিন।

শিক্ষার মানের করুণ দশা বিশ্বব্যাংকের গত বছরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের একাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর শিখন মান সপ্তম শ্রেণির সমপর্যায়ের। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা ১৮ বছর বয়সে ১১ বছরের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নিলেও প্রকৃতপক্ষে মাত্র ৬.৫ বছরের সমতুল্য জ্ঞান অর্জন করছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী মনে করেন, দীর্ঘদিনের বিনিয়োগহীনতা, সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা শিক্ষার মানকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে।

নতুন সরকারের তিন অগ্রাধিকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা জানিয়েছেন: ১. শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে উপযোগী পরিবেশ তৈরি। ২. জাতীয় কারিকুলাম রিভিউ ও যুগোপযোগী পরিমার্জন। ৩. কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন।

পাশাপাশি তিনি ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করার এবং ১৮০ দিনের একটি রোডম্যাপ প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন।

চ্যালেঞ্জের বহুমাত্রিক রূপ শিক্ষামন্ত্রী ২০০১-২০০৬ মেয়াদে নকল নির্মূলে সফল হলেও এবারের প্রেক্ষাপট অনেক বেশি জটিল। তাঁর সামনে থাকা প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো:

  • নিয়োগ ও এমপিও জটিলতা: নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এবং অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের এমপিওভুক্তির দাবি মেটানো।
  • প্রশাসনিক শৃঙ্খলা: বদলি-পদায়ন, বই ছাপানো এবং শিক্ষা প্রকল্পগুলোতে জেঁকে বসা দুর্নীতির জাল ছিন্ন করা।
  • ডিজিটাল বৈষম্য: গ্রামীণ ও শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগের যে বিস্তর ফারাক, তা দূর করা।
  • উচ্চশিক্ষার মান: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং মানসম্মত গবেষণার পরিবেশ তৈরি করে ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বা মেধাপাচার রোধ করা।

সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদের মতে, খণ্ডিত লক্ষ্যের চেয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন। এবারই প্রথম দুই মন্ত্রণালয়কে একজন মন্ত্রীর অধীনে আনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে যে গতি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে মন্ত্রী কতটা সফল হন—সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।