কক্সবাজার শহরের প্রবেশদ্বার কলাতলী এলাকায় একটি নবনির্মিত এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলা নিরলস প্রচেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ এবং বিমানবাহিনীর সম্মিলিত ১০টি ইউনিটের অক্লান্ত পরিশ্রমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে এই স্বস্তির খবর আসে।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে আটটার দিকে ‘এন আলম ফিলিং স্টেশন’ নামে পরিচিত এই গ্যাস পাম্পটিতে অগ্নিকাণ্ড সূত্রপাত হয়। প্রাথমিক আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিকট শব্দে দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, অগ্নিকাণ্ডের প্রভাবে পাম্পের আশেপাশের প্রায় ৫০টি বাড়িঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে মাইকিং করে স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
ঘটনা সম্পর্কে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান সাংবাদিকদের জানান, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিটের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রাত পৌনে দুইটার দিকে আগুন সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডে বেশ কিছু ঘরবাড়ি এবং একটি গ্যারেজে রাখা কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও জানান, অগ্নিদগ্ধ ১০ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে নয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন বলেন, বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে আটটার দিকে গ্যাস পাম্পের লিকেজ থেকে প্রথম অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রাত দশটার দিকে দ্বিতীয় দফায় একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পাম্পের বিভিন্ন অংশে আগুন ধরে যায় এবং তা দ্রুত আশেপাশের স্থাপনাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণস্থলের পাশে একটি গ্যাসভর্তি ট্যাংক থাকায় নতুন করে বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে প্রথম অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে দ্বিতীয় দফায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী ও পুলিশ সম্মিলিতভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই গ্যাস পাম্পটি অনুমতিবিহীন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই চালু করার কাজ চলছিল এবং চালু হওয়ার পূর্বেই গ্যাস আনলোড করার সময় অগ্নিকাণ্ডটি ঘটে।
রিপোর্টারের নাম 






















