ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: স্থবিরতা কাটিয়ে ইতিবাচক মোড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে স্থবিরতা ও টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। দুই দেশের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পাশাপাশি জনগণের চলাচলের পথগুলোও পুনরায় সচল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ভিসা ও যাতায়াতে গতি ফিরছে নিরাপত্তাজনিত কারণে গত দেড় বছর বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সীমিত থাকলেও সম্প্রতি মেডিকেল ভিসার স্লট বাড়ানো হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সীমিত আকারে পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে দিল্লি। এর আগে ভারতের আগরতলা ও শিলিগুড়ির হোটেলগুলোতে বাংলাদেশিদের থাকার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তাও তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিসও পুনরায় চালু হচ্ছে।

দিল্লির ইতিবাচক বার্তা নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে সপরিবারে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অভিনন্দন বার্তায় মোদি কানেক্টিভিটি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিসহ বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য যে, বিএনপির মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি উপস্থিত থেকে ইতিবাচক সম্পর্কের বার্তা দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ মতামত: ‘পারস্পরিক সম্মানই মূল কথা’ সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির এই পরিবর্তনের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, চলতি বছর গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কে গতি ফেরানো বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশেরই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভারতকে যেমন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদ নিয়ে ভাবতে হয়, তেমনি বাংলাদেশের জন্য মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ করা জরুরি। তবে এই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে, যাতে কোনোভাবেই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ না থাকে।”

বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকারের সময়ের মতো একপাক্ষিক বা চাপিয়ে দেওয়া সম্পর্কের বদলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও জনস্বার্থবান্ধব কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এখন সময়ের বড় দাবি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদুল ফিতরে টানা ছুটির হাতছানি: জেনে নিন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের অবকাশের সময়সূচি

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: স্থবিরতা কাটিয়ে ইতিবাচক মোড়

আপডেট সময় : ০১:০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে স্থবিরতা ও টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। দুই দেশের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পাশাপাশি জনগণের চলাচলের পথগুলোও পুনরায় সচল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ভিসা ও যাতায়াতে গতি ফিরছে নিরাপত্তাজনিত কারণে গত দেড় বছর বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সীমিত থাকলেও সম্প্রতি মেডিকেল ভিসার স্লট বাড়ানো হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সীমিত আকারে পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে দিল্লি। এর আগে ভারতের আগরতলা ও শিলিগুড়ির হোটেলগুলোতে বাংলাদেশিদের থাকার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তাও তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিসও পুনরায় চালু হচ্ছে।

দিল্লির ইতিবাচক বার্তা নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে সপরিবারে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অভিনন্দন বার্তায় মোদি কানেক্টিভিটি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিসহ বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য যে, বিএনপির মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি উপস্থিত থেকে ইতিবাচক সম্পর্কের বার্তা দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ মতামত: ‘পারস্পরিক সম্মানই মূল কথা’ সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির এই পরিবর্তনের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, চলতি বছর গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কে গতি ফেরানো বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশেরই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভারতকে যেমন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদ নিয়ে ভাবতে হয়, তেমনি বাংলাদেশের জন্য মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ করা জরুরি। তবে এই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে, যাতে কোনোভাবেই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ না থাকে।”

বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকারের সময়ের মতো একপাক্ষিক বা চাপিয়ে দেওয়া সম্পর্কের বদলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও জনস্বার্থবান্ধব কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এখন সময়ের বড় দাবি।