যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে এবার মুখ খুললেন মাইক্রোসফট সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তিনি স্বীকার করেছেন যে তার কিছু ভুল হয়েছিল এবং এর জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের সঙ্গে এক অভ্যন্তরীণ সভায় এই স্বীকারোক্তি আসে।
মঙ্গলবার রয়টার্সকে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে ফাউন্ডেশনের একজন মুখপাত্র এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করা হয়। এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে গেটস ফাউন্ডেশন জানিয়েছিল যে তারা এপস্টিনকে কোনো অর্থ প্রদান করেনি বা কখনো নিয়োগও দেয়নি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিল গেটস সভায় জানান যে দুজন রুশ নারীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, যা পরবর্তীতে জেফরি এপস্টিন জানতে পারেন। তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ওই নারীরা এপস্টিনের পাচারের শিকার ছিলেন না। এপস্টিনের সঙ্গে তার মেলামেশা এবং গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের সেই যৌন অপরাধীর সঙ্গে বৈঠকে নিয়ে যাওয়াকে তিনি একটি ‘বিরাট ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। সংবাদমাধ্যমটি সভার একটি রেকর্ডিংয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, বিল গেটস তার দাতব্য কার্যক্রম প্রসারের বিষয়ে আলোচনার জন্য এপস্টিনের কারাদণ্ড হওয়ার পরও একাধিকবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
গেটসের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আমার ভুলের কারণে অন্য যারা এ বিষয়ের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছেন, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আমি কোনো অবৈধ কাজ করিনি এবং কোনো অবৈধ কিছু দেখিনি।” বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে বিল গেটসের কিছু ছবিও ছিল, যেখানে তাকে কিছু নারীর সঙ্গে পোজ দিতে দেখা গেছে। যদিও ছবিতে নারীদের মুখ ঝাপসা করে রাখা হয়েছিল।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, বিল গেটস কর্মীদের জানিয়েছেন যে ওই ছবিগুলো বৈঠকের পর এপস্টিনের অনুরোধে তার সহকারীদের সঙ্গে তোলা হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কখনো ভুক্তভোগী বা তার (এপস্টিন) চারপাশের নারীদের সঙ্গে কোনো সময় কাটায়নি।”
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে বিল গেটস এবং তার তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত গেটস ফাউন্ডেশন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিশ্ব স্বাস্থ্যবিষয়ক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান।
রিপোর্টারের নাম 






















