দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলা ভোলার প্রায় ১৮ লাখ মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সেখানে দ্রুত একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া সোমবার স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বরাবরে এই আইনি নোটিশ পাঠান।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ভোলা জেলা ভৌগোলিক কারণে চারদিকে নদী ও সাগরবেষ্টিত হওয়ায় মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। বিশাল জনসংখ্যার এই জেলায় দীর্ঘকাল ধরে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকট বিরাজ করছে। জরুরি প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের বরিশাল বা ঢাকা নিতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় এবং বরিশাল পৌঁছাতে ৪-৫ ঘণ্টা সময় লেগে যাওয়ায় অনেক মুমূর্ষু রোগী পথেই প্রাণ হারান। অনেকে বিনা চিকিৎসায় স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, যা অত্যন্ত অমানবিক।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও ভোলায় স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখ্যযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। জেলার একমাত্র সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। আধুনিক সরঞ্জামের অভাব এবং তীব্র জনবল সংকটের কারণে এসব কেন্দ্র বর্তমানে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলেও ভোলার বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া জানান, ভোলার মানুষের জীবন রক্ষায় একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল স্থাপন এখন সময়ের দাবি। এর আগে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পর সরকার যদি দ্রুত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হবে বলে তিনি জানান।
রিপোর্টারের নাম 























