ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্ত্রীর দাঁত উপড়ে ফেলা ও প্রহরীকে মারধর: আইসিটি প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে নিজ স্ত্রীকে নৃশংস শারীরিক নির্যাতন এবং সুপ্রিম কোর্টের এক নিরাপত্তা প্রহরীকে গানম্যান দিয়ে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী স্ত্রী হোসনে আরা গত ১৮ নভেম্বর তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিকার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। একইসঙ্গে এক নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানোর ঘটনাটিও সামনে এসেছে।

চিফ প্রসিকিউটরের কাছে দেওয়া অভিযোগে হোসনে আরা জানান, গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাতে আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারে সুলতান মাহমুদ তার ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে সুলতান তার গলা চেপে ধরেন এবং পেটে ও মুখে উপর্যুপরি লাথি মারেন। এই বর্বর হামলায় হোসনে আরার একটি দাঁত উপড়ে যায় এবং তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। সে সময় বাচ্চার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সুলতান মাহমুদ প্রায়ই তার ওপর এ ধরনের পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন এবং বর্তমানে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এর আগেও নির্যাতনের বিচার চেয়ে উচ্চ আদালতে অভিযোগ করেছিলেন বলে জানান ভুক্তভোগী স্ত্রী।

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা প্রহরী মাঈন উদ্দিনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এই প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওইদিন বিকেলে লিফটে ওঠার সময় মাঈন উদ্দিনের সঙ্গে সুলতান মাহমুদের অনিচ্ছাকৃত ধাক্কা লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুলতান মাহমুদ তার সরকারি গানম্যানকে নির্দেশ দেন প্রহরীকে মারধর করতে। গানম্যানের বেধড়ক পিটুনিতে মাঈন উদ্দিন গুরুতর আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ছাড়াই তিনি বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় নথিপত্র বাইরে সরবরাহ করেছেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা এসব তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

উল্লেখ্য, এই অভিযোগগুলো সামনে আসার ঠিক একদিন আগে, গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের পাল্টা অভিযোগ তুলেছিলেন বি এম সুলতান মাহমুদ। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আইনি ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

স্ত্রীর দাঁত উপড়ে ফেলা ও প্রহরীকে মারধর: আইসিটি প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:২৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে নিজ স্ত্রীকে নৃশংস শারীরিক নির্যাতন এবং সুপ্রিম কোর্টের এক নিরাপত্তা প্রহরীকে গানম্যান দিয়ে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী স্ত্রী হোসনে আরা গত ১৮ নভেম্বর তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিকার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। একইসঙ্গে এক নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানোর ঘটনাটিও সামনে এসেছে।

চিফ প্রসিকিউটরের কাছে দেওয়া অভিযোগে হোসনে আরা জানান, গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাতে আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারে সুলতান মাহমুদ তার ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে সুলতান তার গলা চেপে ধরেন এবং পেটে ও মুখে উপর্যুপরি লাথি মারেন। এই বর্বর হামলায় হোসনে আরার একটি দাঁত উপড়ে যায় এবং তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। সে সময় বাচ্চার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সুলতান মাহমুদ প্রায়ই তার ওপর এ ধরনের পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন এবং বর্তমানে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এর আগেও নির্যাতনের বিচার চেয়ে উচ্চ আদালতে অভিযোগ করেছিলেন বলে জানান ভুক্তভোগী স্ত্রী।

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা প্রহরী মাঈন উদ্দিনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এই প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওইদিন বিকেলে লিফটে ওঠার সময় মাঈন উদ্দিনের সঙ্গে সুলতান মাহমুদের অনিচ্ছাকৃত ধাক্কা লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুলতান মাহমুদ তার সরকারি গানম্যানকে নির্দেশ দেন প্রহরীকে মারধর করতে। গানম্যানের বেধড়ক পিটুনিতে মাঈন উদ্দিন গুরুতর আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ছাড়াই তিনি বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় নথিপত্র বাইরে সরবরাহ করেছেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা এসব তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

উল্লেখ্য, এই অভিযোগগুলো সামনে আসার ঠিক একদিন আগে, গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের পাল্টা অভিযোগ তুলেছিলেন বি এম সুলতান মাহমুদ। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আইনি ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।