ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনে নেত্রকোণার রাবেয়া খাতুন: শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন নেত্রকোণা জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুনের নাম। নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতির আভাস দেওয়ার পরেই পূর্বধলা উপজেলার এই শিক্ষাবিদ ও প্রবীণ রাজনীতিক তার সুদীর্ঘ কর্মময় জীবন এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কারণে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে রাবেয়া খাতুনের পরিচিতি সুদূরপ্রসারী। তার বাবা মরহুম অ্যাডভোকেট মৌলভী আকবর আলী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের একজন সম্মানিত সদস্য। এছাড়া, তার স্বামী ডা. মোহাম্মদ আলী নেত্রকোণা-৫ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশ ও দশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এমন একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ায় তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন।

শিক্ষাজীবনে রাবেয়া খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষকতা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন এবং পূর্বধলায় নারী শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাবেয়া আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতির পদে রয়েছেন। তার হাত ধরে এই অঞ্চলের বহু নারী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

দলের রাজনীতিতেও রাবেয়া খাতুনের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য। এর আগে তিনি তেজগাঁও থানা বিএনপির সদস্য এবং মহিলা দলের তেজগাঁও শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতো সাংগঠনিক পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন জানান, “দলের সুসময়-দুঃসময় সব সময়ই পাশে থেকেছি। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নানা কর্মকাণ্ডে আমি জনসাধারণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তবে দলের আদর্শ বাস্তবায়নে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমি আমার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করে যাবো।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখার লড়াই: শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি পাকিস্তান, সামনে পাহাড়সম সমীকরণ

সংরক্ষিত নারী আসনে নেত্রকোণার রাবেয়া খাতুন: শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক

আপডেট সময় : ০৪:২১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন নেত্রকোণা জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুনের নাম। নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতির আভাস দেওয়ার পরেই পূর্বধলা উপজেলার এই শিক্ষাবিদ ও প্রবীণ রাজনীতিক তার সুদীর্ঘ কর্মময় জীবন এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কারণে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে রাবেয়া খাতুনের পরিচিতি সুদূরপ্রসারী। তার বাবা মরহুম অ্যাডভোকেট মৌলভী আকবর আলী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের একজন সম্মানিত সদস্য। এছাড়া, তার স্বামী ডা. মোহাম্মদ আলী নেত্রকোণা-৫ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশ ও দশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এমন একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ায় তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন।

শিক্ষাজীবনে রাবেয়া খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষকতা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন এবং পূর্বধলায় নারী শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাবেয়া আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতির পদে রয়েছেন। তার হাত ধরে এই অঞ্চলের বহু নারী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

দলের রাজনীতিতেও রাবেয়া খাতুনের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য। এর আগে তিনি তেজগাঁও থানা বিএনপির সদস্য এবং মহিলা দলের তেজগাঁও শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতো সাংগঠনিক পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন জানান, “দলের সুসময়-দুঃসময় সব সময়ই পাশে থেকেছি। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নানা কর্মকাণ্ডে আমি জনসাধারণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তবে দলের আদর্শ বাস্তবায়নে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমি আমার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করে যাবো।”