ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বান্দরবানে আরকান আর্মির ৩ সদস্য আটক: সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বানচাল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) তিন সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের আমতলী সীমান্ত এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে মিয়ানমারের মুদ্রা উদ্ধার করা হয় এবং পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলী সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে তিন ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা নিজেদের মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির সদস্য বলে পরিচয় দেয়। আটককৃতদের কাছ থেকে কিছু মিয়ানমারের মুদ্রা জব্দ করা হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি তিন ব্যক্তিকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তারা প্রাথমিকভাবে আরাকান আর্মির সদস্য বলে জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলছে।”

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানান, “ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার রয়েছে।”

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “ঘুমধুম ইউনিয়নের আমতলী সীমান্ত এলাকা থেকে তিনজনকে বিজিবি আটক করেছে বলে জেনেছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সীমান্ত সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রায়শই অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচারের ঘটনা ঘটে। এসব কার্যকলাপ রোধে বিজিবি নিয়মিত টহল কার্যক্রম ও নজরদারি জোরদার রেখেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখার লড়াই: শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি পাকিস্তান, সামনে পাহাড়সম সমীকরণ

বান্দরবানে আরকান আর্মির ৩ সদস্য আটক: সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বানচাল

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) তিন সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের আমতলী সীমান্ত এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে মিয়ানমারের মুদ্রা উদ্ধার করা হয় এবং পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলী সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে তিন ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা নিজেদের মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির সদস্য বলে পরিচয় দেয়। আটককৃতদের কাছ থেকে কিছু মিয়ানমারের মুদ্রা জব্দ করা হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি তিন ব্যক্তিকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তারা প্রাথমিকভাবে আরাকান আর্মির সদস্য বলে জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলছে।”

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানান, “ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার রয়েছে।”

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “ঘুমধুম ইউনিয়নের আমতলী সীমান্ত এলাকা থেকে তিনজনকে বিজিবি আটক করেছে বলে জেনেছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সীমান্ত সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রায়শই অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচারের ঘটনা ঘটে। এসব কার্যকলাপ রোধে বিজিবি নিয়মিত টহল কার্যক্রম ও নজরদারি জোরদার রেখেছে।