ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আওয়ামী লীগ নেতার জামিন ঘিরে উত্তাল বরিশাল আদালত: বিচারক অপসারণের দাবিতে আইনজীবীদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আইনজীবীরা। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুছকে একটি মামলায় জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সারাফাত উল্লাহর অপসারণের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছেন তারা। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আইনজীবীরা তাদের দাবি জানান এবং বিচারক অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। এই ঘটনায় দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার। ওইদিন বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুছকে জামিন দেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাফাত উল্লাহ। এই জামিনের পরপরই বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, যারা দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে খুন, গুম, হত্যা ও হামলা-মামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, আদালত কোনো প্রকার অনুশোচনা ছাড়াই তাদের জামিন দিয়ে দিচ্ছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতিতে হামলা-মামলা ও গুমের শিকার হওয়া পরিবারগুলোকে তারা কী জবাব দেবেন? একজন আইনজীবী বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কীভাবে তিনি জামিন পেলেন, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি রাজনৈতিক মামলা চলমান থাকলেও এই মামলায় তাকে আটক দেখানো হয়নি।

বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু অভিযোগ করেন, উল্লিখিত বিচারক ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ’ প্রতিষ্ঠা করার রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে বরিশালে এসেছেন। তিনি আরও বলেন, যেখানে বিস্ফোরক মামলায় সাধারণ মানুষকে জেলা জজ আদালত থেকে জামিন নিতে হয়, সেখানে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নিম্ন আদালত থেকেই জামিন দেওয়া হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা বিচারক সারাফাত উল্লাহকে ‘ওবায়দুল কাদেরের ভাগ্নে’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেন এবং তার অবিলম্বে অপসারণ দাবি করেন।

আইনজীবীরা ঘোষণা দেন, বিচারক সারাফাত উল্লাহকে অপসারণ না করা পর্যন্ত অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত থাকবে। তারা অন্যান্য আইনজীবীদেরও এই বর্জনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, আইনজীবীদের আদালত বর্জনের কারণে দূরদূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য বিচারপ্রার্থী বিচারিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ পান্না, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন মন্টু, আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মীর্জা রিয়াজ হোসেন, আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখার লড়াই: শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি পাকিস্তান, সামনে পাহাড়সম সমীকরণ

আওয়ামী লীগ নেতার জামিন ঘিরে উত্তাল বরিশাল আদালত: বিচারক অপসারণের দাবিতে আইনজীবীদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৩:১০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আইনজীবীরা। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুছকে একটি মামলায় জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সারাফাত উল্লাহর অপসারণের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছেন তারা। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আইনজীবীরা তাদের দাবি জানান এবং বিচারক অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। এই ঘটনায় দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার। ওইদিন বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুছকে জামিন দেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাফাত উল্লাহ। এই জামিনের পরপরই বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, যারা দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে খুন, গুম, হত্যা ও হামলা-মামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, আদালত কোনো প্রকার অনুশোচনা ছাড়াই তাদের জামিন দিয়ে দিচ্ছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতিতে হামলা-মামলা ও গুমের শিকার হওয়া পরিবারগুলোকে তারা কী জবাব দেবেন? একজন আইনজীবী বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কীভাবে তিনি জামিন পেলেন, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি রাজনৈতিক মামলা চলমান থাকলেও এই মামলায় তাকে আটক দেখানো হয়নি।

বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু অভিযোগ করেন, উল্লিখিত বিচারক ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ’ প্রতিষ্ঠা করার রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে বরিশালে এসেছেন। তিনি আরও বলেন, যেখানে বিস্ফোরক মামলায় সাধারণ মানুষকে জেলা জজ আদালত থেকে জামিন নিতে হয়, সেখানে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নিম্ন আদালত থেকেই জামিন দেওয়া হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা বিচারক সারাফাত উল্লাহকে ‘ওবায়দুল কাদেরের ভাগ্নে’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেন এবং তার অবিলম্বে অপসারণ দাবি করেন।

আইনজীবীরা ঘোষণা দেন, বিচারক সারাফাত উল্লাহকে অপসারণ না করা পর্যন্ত অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত থাকবে। তারা অন্যান্য আইনজীবীদেরও এই বর্জনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, আইনজীবীদের আদালত বর্জনের কারণে দূরদূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য বিচারপ্রার্থী বিচারিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ পান্না, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন মন্টু, আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মীর্জা রিয়াজ হোসেন, আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন প্রমুখ।