মাদারীপুর শহরে আবারও ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রেশ ধরে সোমবার রাতে পূর্ব আমিরাবাদ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং অন্তত ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সোনালী পরিবহনের চালক কাওসার হোসেন ও তার স্ত্রীকে ডিসি ব্রিজ এলাকার কয়েকজন যুবক মারধর করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ডিসি ব্রিজ, কলেজ রোড, পূর্ব আমিরাবাদসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর ও যুবকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। একপর্যায়ে তা ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে পূর্ব আমিরাবাদ এলাকায় অন্তত ১০টি ককটেলের বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। নিরাপত্তার শঙ্কায় আমিরাবাদের বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হতে পারেননি। অনেক ব্যবসায়ী দ্রুত তাদের দোকানপাট বন্ধ করে দেন। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্যরা। সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও মাদারীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এমন সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ ধরনের পুনরাবৃত্তি শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
রিপোর্টারের নাম 
























