নওগাঁ, আম উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত একটি জেলা। বর্তমানে এই জেলার প্রতিটি আমবাগান যেন মুকুলের পসরা সাজিয়ে বসেছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মন মাতানো সুঘ্রাণ। হলুদ আর সবুজ মুকুলের দৃষ্টিনন্দন সমারোহে আমচাষিদের মনে এবার ভালো ফলনের আশা দানা বেঁধেছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার গাছে মুকুল এসেছে অনেক বেশি, যা বাম্পার ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি আমগাছের ডালপালা মুকুলে ছেয়ে আছে। শুধু বাগান নয়, বসতবাড়ি এবং রাস্তার পাশের গাছগুলোতেও হলুদ ও সবুজের মিশেলে মুকুলের অপরূপ শোভা চোখে পড়ছে। বড় ও মাঝারি আকারের গাছে মুকুলের পরিমাণ বেশি। গত বছর শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার কারণে মুকুল ও গুটি ঝরে গিয়ে ফলন বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিলেন চাষিরা। তবে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং শীতের দাপট কম হওয়ায় বাগান মালিকরা আশায় বুক বেঁধেছেন। তারা এখন মুকুল পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় মোট ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমচাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টরের চেয়ে ২০০ হেক্টর বেশি। গত বছর ৪ লাখ ৩১ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ফলন বিপর্যয়ের কারণে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন। তবে এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কৃষি বিভাগ ৪ লাখ ৫০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। জেলার সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় আমের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। এই দুই উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আমচাষ করা হয়েছে।
সাপাহার উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা জানান, গত বছর তার বাগানে ৫০-৬০ শতাংশ গাছে মুকুল এলেও এবার ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে বাকি গাছগুলোতেও মুকুল আসবে বলে তিনি আশাবাদী। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং পর্যাপ্ত রোদের কারণে মুকুলে ছত্রাকের আক্রমণ তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। কিছু কিছু মুকুলে ইতোমধ্যে আমের গুটিও আসতে শুরু করেছে। একই উপজেলার আরেক আমচাষি সাইদুর রহমান বলেন, গত বছর শীতের কারণে মুকুল আসতে ১৫ থেকে ২০ দিন দেরি হয়েছিল, এমনকি মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়েও অনেক গাছে মুকুল ধরেছিল। কিন্তু এবার অনেক আগেই মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের ভালো ফলন হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
পোরশা উপজেলার আমচাষি মর্তুজা মাহাতাব জানান, মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুলকে রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্প্রে করা হচ্ছে।
চাষিরা আরও জানান, গতবারের তুলনায় এবার সবার বাগানে অনেক ভালো মুকুল এসেছে। মুকুল যেন ঝরে না পড়ে, সেজন্য সার, কীটনাশক ও সেচ দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের দাবি, সব ধরনের বালাইনাশক ও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় আম উৎপাদনের খরচ দিন দিন বাড়ছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল জানান, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে বাগানগুলোতে মুকুল আসা শুরু করেছে। মুকুল ধরার পর থেকেই তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে এবং এ বছর ঘন কুয়াশার দাপটও ছিল না। ফলে এখন পর্যন্ত কোনো মুকুল ঝরে পড়েনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া আমচাষের অনুকূলে থাকায় এবার আমের ভালো ফলন পাওয়া যাবে। মুকুল ও গুটি যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য কৃষি বিভাগ চাষিদের নিয়মিত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























