দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, নবগঠিত বিএনপি সরকারের এই পদক্ষেপ ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনা ও জন-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে একটি গণতান্ত্রিক সমাজের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিহিত করেন তিনি।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। যে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পথ প্রশস্ত হয়েছে, সেখানে জনগণের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকার পর্যায়েও দ্রুত জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যখন স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে বসানো জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।
জামায়াত নেতার দাবি, এই নিয়োগের মাধ্যমে জনমনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দীর্ঘায়িত করার কোনো ষড়যন্ত্র কি না, কিংবা আরেকটি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ কি না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, দলীয় ব্যক্তিদের এ ধরনের নিয়োগ নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য শুভলক্ষণ নয়।
বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে সিটি করপোরেশনগুলোতে রাজনৈতিক নিয়োগ বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সকল স্তরে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
রিপোর্টারের নাম 
























