কেবল বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা নয়, সমাজ ও দেশ গঠনে মানুষের মন ও মানসিকতাকেও পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। সোমবার (১১ নভেম্বর) সকালে বদরগঞ্জ পৌর শহরের শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় এক পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গঠন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “শুধু রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখলে হবে না, মানুষের অন্তর ও চিন্তা-চেতনাও পরিষ্কার রাখতে হবে। নিজেদের ভেতরে কলুষতা রেখে কেবল বাইরের ময়লা পরিষ্কার করে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পরিচ্ছন্নতা কেবল একটি কর্মসূচি নয়, বরং এটি ঈমানের অঙ্গ এবং সামাজিক সচেতনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে দেশকেও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা জানান, তাদের দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দেখে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষও অনুপ্রাণিত হবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ ও সমাজকে বাসযোগ্য করে তুলবে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এমপি আজহারুল ইসলাম বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “অতীতে কে কী করেছেন, সেটি এখন আর বিবেচ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের সঠিক সেবা নিশ্চিত করা।” হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং সরকারি ওষুধ ও সেবা যেন যথাযথভাবে রোগীরা পায়, সে বিষয়ে তিনি কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
একজন সংসদ সদস্যের সরাসরি রাস্তা পরিষ্কারে অংশ নেওয়া এবং হাসপাতালের সেবার মান তদারকি করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা এই উদ্যোগকে ‘বিরল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জনপ্রতিনিধির এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, জনস্বার্থে এই ধরনের তদারকি ও সেবা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 

























