২০২৬ সালে এসেও ইউরোপ জুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই অস্বাভাবিক গরমের কারণে মহাদেশজুড়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের (এয়ার কন্ডিশনার) চাহিদা অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চীনের বৃহৎ হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য দ্রুত ইউরোপের বাজারে পৌঁছে দিতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে।
প্রচলিত সমুদ্রপথের পরিবর্তে চীন-ইউরোপ মালবাহী ট্রেনকে তারা প্রধান পরিবহন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে পণ্যের সরবরাহ সময় উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে, যা ইউরোপের বর্ধিত চাহিদা পূরণে সহায়ক হচ্ছে। চীনের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশনের (এনডিআরসি) এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, মিডিয়া গ্রুপ ও গ্রি ইলেকট্রিক অ্যাপ্লায়েন্সের মতো বড় সংস্থাগুলো তাদের লজিস্টিক ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন এনেছে।
সাধারণত সমুদ্রপথে পণ্য পৌঁছাতে প্রায় ৪০ দিন সময় লাগলেও, চীন-ইউরোপ মালবাহী ট্রেনে মাত্র ১৫ দিনেই পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে পরিবহন সময় প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি কমে এসেছে। ইউরোপের স্থানীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রক উৎপাদন সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায়, এই মহাদেশের বাজার মূলত চীনের উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের ৮০ শতাংশেরও বেশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রক উৎপাদন হয় চীনের পার্ল রিভার ডেল্টা অঞ্চলে।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গুয়াংঝু রেলওয়ে গ্রুপের চীন-ইউরোপ মালবাহী ট্রেনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ পরিবহনের মূল্য ৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই সময়ে এক লাখের বেশি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রক ইউনিট ইউরোপে পাঠানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন-ইউরোপ রেলপথ মৌসুমি পণ্যের দ্রুত সরবরাহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সমুদ্রপথের তুলনায় দ্রুততর এবং আকাশপথের তুলনায় কম ব্যয়বহুল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখন একটি দ্বৈত কৌশল গ্রহণ করছেন: নিয়মিত মজুতের জন্য সমুদ্রপথ এবং জরুরি সরবরাহের জন্য রেলপথ ব্যবহার করছেন।
বর্তমানে চীন-ইউরোপ মালবাহী ট্রেন ৯৬টি রুটে পরিচালিত হচ্ছে, যা ২৬টি ইউরোপীয় দেশের ২৩৬টি শহরের সঙ্গে সংযুক্ত। এই পর্যন্ত এই রুটে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি ট্রেন চলাচল করেছে এবং পরিবহন করা পণ্যের মোট মূল্য ৫২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
রিপোর্টারের নাম 





















