মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

নারী নির্যাতনের লাগামহীন বৃদ্ধি: বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও অপরাধীদের দাপট

বাংলাদেশে নারী নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব নৃশংস ঘটনায় মামলা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খবরে দেখা গেছে, পারিবারিক কলহ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত আক্রোশ— নানা কারণে নারীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। যেমন, বিগত সময়ে দিনাজপুরের বিরলে বিবাহবিচ্ছেদের জেরে সাবেক স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার এক মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমানকে সেসময় আটক করেছিল পুলিশ। বিরল উপজেলার বিজোড়া গ্রামে সংঘটিত এই ঘটনায় নিহত সুমাইয়া আক্তার শ্যামলীকে তার সাবেক স্বামী মাহবুবুর রহমান জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর দগ্ধ শ্যামলীকে রংপুর মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, নরসিংদীতে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগে স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। বিগত সরকার আমলের ওই রায় ঘোষণা করেন নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান। সাজাপ্রাপ্ত নূর আলম রূপা পলাশ উপজেলার আ. রহিম মিয়ার ছেলে।

এ ধরনের ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ ও বিচার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে নারী নির্যাতনের লাগাম টেনে ধরা কঠিন হবে বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ আলোচনা: তেহরানে যাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা, সমঝোতার আশা

নারী নির্যাতনের লাগামহীন বৃদ্ধি: বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও অপরাধীদের দাপট

আপডেট সময় : ০৬:১৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে নারী নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব নৃশংস ঘটনায় মামলা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খবরে দেখা গেছে, পারিবারিক কলহ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত আক্রোশ— নানা কারণে নারীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। যেমন, বিগত সময়ে দিনাজপুরের বিরলে বিবাহবিচ্ছেদের জেরে সাবেক স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার এক মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমানকে সেসময় আটক করেছিল পুলিশ। বিরল উপজেলার বিজোড়া গ্রামে সংঘটিত এই ঘটনায় নিহত সুমাইয়া আক্তার শ্যামলীকে তার সাবেক স্বামী মাহবুবুর রহমান জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর দগ্ধ শ্যামলীকে রংপুর মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, নরসিংদীতে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগে স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। বিগত সরকার আমলের ওই রায় ঘোষণা করেন নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান। সাজাপ্রাপ্ত নূর আলম রূপা পলাশ উপজেলার আ. রহিম মিয়ার ছেলে।

এ ধরনের ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ ও বিচার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে নারী নির্যাতনের লাগাম টেনে ধরা কঠিন হবে বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা।