ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’: ১০ মার্চ থেকে ১৩ উপজেলায় পরীক্ষামূলক চালু

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দেশের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ১৩টি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী এই বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।

গতকাল রবিবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কমিটির এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে দুটি উপজেলায় পাইলটিংয়ের পরিকল্পনা থাকলেও, পরে তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যাপারে একমত পোষণ করা হয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে একটি কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতিতে সহায়তা প্রদান করা হবে। এই লক্ষ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ব্যবহার করা হলেও, নির্বাচিত ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিনে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। উপকারভোগীদের চারটি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে: হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ শতাংশ টার্গেটিং ত্রুটি পরিলক্ষিত হচ্ছে, যার ফলে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হলে একাধিক কর্মসূচির সুবিধা একীভূতকরণের মাধ্যমে এই ত্রুটি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের সচিব উল্লেখ করেছেন যে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্ড এবং ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচির মতো বিভিন্ন প্রকল্পকে একীভূত করা হবে। সুবিধাভোগী নির্বাচনের জন্য এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ এবং মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই ব্যক্তি যেন একাধিক সুবিধা না পান, তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে এই কার্ডের আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, প্রতিটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এ পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কোনো একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচজনের বেশি হলে, সেক্ষেত্রে প্রতি পাঁচজনের জন্য পৃথক কার্ডের ব্যবস্থা থাকবে। একজন ব্যক্তি একাধিক ভাতা পেলেও, পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের প্রাপ্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন না।

যেসব উপজেলায় মিলবে ফ্যামিলি কার্ড:
আগামী ১০ মার্চ থেকে ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে পাইলটিংয়ের মাধ্যমে নারীপ্রধান প্রতিটি খানার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু হবে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে এবং পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। অনুদানের অর্থ সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। তবে, নারী খানা প্রধান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছাড়া অন্য কোনো ভাতা পাবেন না, কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের ভাতা যথারীতি বহাল থাকবে।

প্রাথমিকভাবে যে ১৩টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু হচ্ছে সেগুলো হলো: ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও এবং ঢাকার নবাবগঞ্জ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত উত্তেজনা: আলোচনায় বসার আহ্বান চীনের, মধ্যস্থতার প্রস্তাবও

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’: ১০ মার্চ থেকে ১৩ উপজেলায় পরীক্ষামূলক চালু

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ১৩টি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী এই বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।

গতকাল রবিবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কমিটির এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে দুটি উপজেলায় পাইলটিংয়ের পরিকল্পনা থাকলেও, পরে তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যাপারে একমত পোষণ করা হয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে একটি কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতিতে সহায়তা প্রদান করা হবে। এই লক্ষ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ব্যবহার করা হলেও, নির্বাচিত ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিনে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। উপকারভোগীদের চারটি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে: হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ শতাংশ টার্গেটিং ত্রুটি পরিলক্ষিত হচ্ছে, যার ফলে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হলে একাধিক কর্মসূচির সুবিধা একীভূতকরণের মাধ্যমে এই ত্রুটি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের সচিব উল্লেখ করেছেন যে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্ড এবং ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচির মতো বিভিন্ন প্রকল্পকে একীভূত করা হবে। সুবিধাভোগী নির্বাচনের জন্য এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ এবং মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই ব্যক্তি যেন একাধিক সুবিধা না পান, তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে এই কার্ডের আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, প্রতিটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এ পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কোনো একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচজনের বেশি হলে, সেক্ষেত্রে প্রতি পাঁচজনের জন্য পৃথক কার্ডের ব্যবস্থা থাকবে। একজন ব্যক্তি একাধিক ভাতা পেলেও, পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের প্রাপ্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন না।

যেসব উপজেলায় মিলবে ফ্যামিলি কার্ড:
আগামী ১০ মার্চ থেকে ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে পাইলটিংয়ের মাধ্যমে নারীপ্রধান প্রতিটি খানার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু হবে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে এবং পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। অনুদানের অর্থ সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। তবে, নারী খানা প্রধান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছাড়া অন্য কোনো ভাতা পাবেন না, কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের ভাতা যথারীতি বহাল থাকবে।

প্রাথমিকভাবে যে ১৩টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু হচ্ছে সেগুলো হলো: ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও এবং ঢাকার নবাবগঞ্জ।