ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজানেও লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার: মনিটরিং সত্ত্বেও দামের আগুনে পুড়ছেন ক্রেতারা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের কঠোর মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান সত্ত্বেও লাগামহীন হয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন জেলার বাজার। বিশেষ করে কাঁচাবাজারগুলোতে সবজি, ফলমূল ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা। অনেক ক্ষেত্রে অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই অসাধু ব্যবসায়ীরা পূর্বের দামে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা প্রশাসনের তৎপরতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কাঁচাবাজারগুলোতে পণ্যের দাম কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। সোনারগাঁয়ে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করলেও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। গত শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির দিনে কিছু কিছু পণ্যের দাম উল্টো আরও বেড়েছে। সম্প্রতি সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের নেতৃত্বে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, উদ্ধবগঞ্জ, বৈদ্যের বাজার কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার তদারকি করে প্রায় ২০ জন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয় পেঁয়াজ, লেবু, তরমুজসহ বিভিন্ন কাঁচামাল অতিরিক্ত দামে বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং পণ্য ক্রয়ের রসিদ দেখাতে না পারার অভিযোগে। তবে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর অধিকাংশ ব্যবসায়ী আবার আগের অবস্থানে ফিরে যান। অনেক দোকানেই মূল্য তালিকা টানানো হয়নি এবং জরিমানার পরও লেবু ও তরমুজের দাম পূর্বের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গায় রমজানের শুরুতেই বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। শহরের কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে হঠাৎ করেই বেড়েছে দ্রব্যমূল্য। বিশেষ করে সবজির বাজারে কয়েক দিনের ব্যবধানে অনেক পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। কয়েক সপ্তাহ আগেও যে শসা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা বেড়ে ১৩০ টাকা কেজি; বেগুন ৫০ থেকে ১০০-১২০ টাকা; টমেটো ৪০ থেকে ৬০ টাকা; পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৫০ টাকা; রসুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে বেড়ে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি কাগজি লেবু প্রকারভেদে ৬০ থেকে ১২০ টাকা হালি, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৩০ টাকা। আলুর দাম ২০ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত থাকলেও সবজির এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

ফরিদপুরের সদরপুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রচুর সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও লেবু, শসাসহ বিভিন্ন প্রকার ফলের দাম আকাশচুম্বী। নিম্নআয়ের রোজাদাররা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন, সাধ ও সাধ্যের মধ্যে বিরাট ফারাক তৈরি হয়েছে তাদের। দোকানিরা যে যেভাবে দাম হাঁকাচ্ছেন, ক্রেতারা সেই দামেই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের নজরদারি বা ভোক্তা কমিটির তৎপরতা কোনোটাই পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গ্রামীণ বাজারগুলোতেও রমজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই নিত্যপণ্যের দাম অল্প আয়ের মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। উৎপাদন কম, আমদানি কম, যাতায়াত খরচ বেশি এবং ক্রয়মূল্য বেশি বিধায় বিক্রি বেশি—এমন সব অজুহাত দাঁড় করিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা লুটে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষদের। আবার অনেক পণ্যের মূল্য নির্ধারিত না থাকায় মনমতো দামে বিক্রি চলছে। প্রতিবছর রমজানে একই চিত্র থাকার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি আগাম প্রস্তুতি। মাসে দু-একটি লোক দেখানো অভিযান বাস্তবে কোনো কাজে আসে না বলে ভোক্তারা অভিযোগ করেন। রমজান শুরুর পরও কার্যকর কোনো তদারকি না দেখায় ভোক্তারা প্রশাসনের নজরদারি ও গাফিলতিকেই দায়ী করছেন। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনীষা আহমেদ জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে রমজানের শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসন বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং খাদ্যের সরবরাহ ও মজুতের বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে।

এদিকে, সিলেটের বিয়ানীবাজারে রোজা শুরুর আগে থেকেই সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজার। পেঁয়াজ, ছোলা, ডাল, রসুন, সয়াবিন তেল, চিনি, শসা, বেগুন, খেজুর, লেবুসহ নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি পণ্য কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বিয়ানীবাজারের সাধারণ ক্রেতারা। বাজার মনিটরিং প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রহমান জানান, শনিবারও বাজারে অভিযান চালানো হয়েছে এবং অনেক ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা। গত রোববার দুপুরে হোসেনপুর বাজারের সবজি মহল এলাকায় তিনি এ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় ফল, চাল, মাংস ও মসলার দোকানে অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা যাচাই ও বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়। অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং ক্রেতাদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা বলেন, রমজানে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে। কেউ অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ের কথা বলা হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট ভাঙতে আরও কঠোর ও লাগাতার অভিযানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করেন তারা। অন্যথায়, সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে শোরুম ম্যানেজারের মর্মান্তিক মৃত্যু

রমজানেও লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার: মনিটরিং সত্ত্বেও দামের আগুনে পুড়ছেন ক্রেতারা

আপডেট সময় : ১০:০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের কঠোর মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান সত্ত্বেও লাগামহীন হয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন জেলার বাজার। বিশেষ করে কাঁচাবাজারগুলোতে সবজি, ফলমূল ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা। অনেক ক্ষেত্রে অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই অসাধু ব্যবসায়ীরা পূর্বের দামে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা প্রশাসনের তৎপরতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কাঁচাবাজারগুলোতে পণ্যের দাম কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। সোনারগাঁয়ে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করলেও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। গত শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির দিনে কিছু কিছু পণ্যের দাম উল্টো আরও বেড়েছে। সম্প্রতি সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের নেতৃত্বে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, উদ্ধবগঞ্জ, বৈদ্যের বাজার কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার তদারকি করে প্রায় ২০ জন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয় পেঁয়াজ, লেবু, তরমুজসহ বিভিন্ন কাঁচামাল অতিরিক্ত দামে বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং পণ্য ক্রয়ের রসিদ দেখাতে না পারার অভিযোগে। তবে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর অধিকাংশ ব্যবসায়ী আবার আগের অবস্থানে ফিরে যান। অনেক দোকানেই মূল্য তালিকা টানানো হয়নি এবং জরিমানার পরও লেবু ও তরমুজের দাম পূর্বের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গায় রমজানের শুরুতেই বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। শহরের কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে হঠাৎ করেই বেড়েছে দ্রব্যমূল্য। বিশেষ করে সবজির বাজারে কয়েক দিনের ব্যবধানে অনেক পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। কয়েক সপ্তাহ আগেও যে শসা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা বেড়ে ১৩০ টাকা কেজি; বেগুন ৫০ থেকে ১০০-১২০ টাকা; টমেটো ৪০ থেকে ৬০ টাকা; পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৫০ টাকা; রসুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে বেড়ে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি কাগজি লেবু প্রকারভেদে ৬০ থেকে ১২০ টাকা হালি, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৩০ টাকা। আলুর দাম ২০ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত থাকলেও সবজির এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

ফরিদপুরের সদরপুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রচুর সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও লেবু, শসাসহ বিভিন্ন প্রকার ফলের দাম আকাশচুম্বী। নিম্নআয়ের রোজাদাররা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন, সাধ ও সাধ্যের মধ্যে বিরাট ফারাক তৈরি হয়েছে তাদের। দোকানিরা যে যেভাবে দাম হাঁকাচ্ছেন, ক্রেতারা সেই দামেই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের নজরদারি বা ভোক্তা কমিটির তৎপরতা কোনোটাই পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গ্রামীণ বাজারগুলোতেও রমজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই নিত্যপণ্যের দাম অল্প আয়ের মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। উৎপাদন কম, আমদানি কম, যাতায়াত খরচ বেশি এবং ক্রয়মূল্য বেশি বিধায় বিক্রি বেশি—এমন সব অজুহাত দাঁড় করিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা লুটে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষদের। আবার অনেক পণ্যের মূল্য নির্ধারিত না থাকায় মনমতো দামে বিক্রি চলছে। প্রতিবছর রমজানে একই চিত্র থাকার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি আগাম প্রস্তুতি। মাসে দু-একটি লোক দেখানো অভিযান বাস্তবে কোনো কাজে আসে না বলে ভোক্তারা অভিযোগ করেন। রমজান শুরুর পরও কার্যকর কোনো তদারকি না দেখায় ভোক্তারা প্রশাসনের নজরদারি ও গাফিলতিকেই দায়ী করছেন। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনীষা আহমেদ জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে রমজানের শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসন বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং খাদ্যের সরবরাহ ও মজুতের বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে।

এদিকে, সিলেটের বিয়ানীবাজারে রোজা শুরুর আগে থেকেই সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজার। পেঁয়াজ, ছোলা, ডাল, রসুন, সয়াবিন তেল, চিনি, শসা, বেগুন, খেজুর, লেবুসহ নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি পণ্য কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বিয়ানীবাজারের সাধারণ ক্রেতারা। বাজার মনিটরিং প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রহমান জানান, শনিবারও বাজারে অভিযান চালানো হয়েছে এবং অনেক ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা। গত রোববার দুপুরে হোসেনপুর বাজারের সবজি মহল এলাকায় তিনি এ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় ফল, চাল, মাংস ও মসলার দোকানে অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা যাচাই ও বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়। অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং ক্রেতাদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা বলেন, রমজানে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে। কেউ অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ের কথা বলা হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট ভাঙতে আরও কঠোর ও লাগাতার অভিযানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করেন তারা। অন্যথায়, সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।