পাবনার ঈশ্বরদীতে এক কৃষকের লিজ নেওয়া জমি থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের গাজর লুটের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী কৃষক অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় যুবদলের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে ঈশ্বরদী ইপিজেড গেট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল ঠাকুরপাড়া গ্রামের মো. আশিস (৩০) এবং একই এলাকার মো. পলাশ (৩০)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব-এর অনুসারী ও যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. শরিফুল ইসলাম (৪১) সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন কৃষক এবং বছরভিত্তিক চুক্তিতে জমি লিজ নিয়ে সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি পাকশী ইউনিয়নের বেলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে হব্বুল চেয়ারম্যানের দেড় বিঘা জমি এবং পাকশী পেপার মিলস কলোনির চরকী গেটের পশ্চিম পাশে স্বপনের নামে লিজ নেওয়া আরও ২ বিঘা জমিতে গাজর চাষ করেছিলেন।
শরিফুল ইসলামের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রাণনাশের হুমকির মুখে তিনি প্রথমে ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তবে পরবর্তীতে আরও টাকা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে।
এই ঘটনার জের ধরে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বেলতলা এলাকার দেড় বিঘা জমি থেকে প্রায় ৩০০ মণ গাজর লুট করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ টাকা। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পাকশী পেপার মিলস কলোনির ২ বিঘা জমি থেকে আরও প্রায় ৩৫০ মণ গাজর লুট করা হয়, যার মূল্য ৩ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার ফসল লুটের অভিযোগ করেছেন এই কৃষক।
বাদী তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, লুট করা গাজরের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এরপর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমিনুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগীর এজাহারের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিরা এত দিন পলাতক ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















