ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত চার মাস ধরে জলাতঙ্ক রোগের জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট চলছে। এর ফলে কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত অসংখ্য রোগী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন না কিনে তা আত্মসাতের পাঁয়তারা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে গরিব ও নিম্ন আয়ের রোগীরা চড়া দামে বাজার থেকে ভ্যাকসিন কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস ধরে হাসপাতালটিতে জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন নেই। এই সংকট নিরসনে দুই মাস আগে উপজেলা পরিষদের এডিপি তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভ্যাট ও অন্যান্য খরচ বাদে ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার একটি চেকও ইস্যু করা হয়। তবে, অবাক করার বিষয় হলো, অদ্যাবধি এই টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কেনা হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই অর্থ কোথায় গেল এবং কেন ভ্যাকসিন কেনা হলো না? একটি অসাধু চক্র এই অর্থ লোপাটের চেষ্টা করছে বলেও জোরালো অভিযোগ উঠেছে।
ভ্যাকসিন সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। শহরের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মাটিকাটা শ্রমিক রোমেচা বেগম জানান, কুকুরে কামড়ানো তার বয়স্ক শাশুড়িকে নিয়ে একাধিকবার হাসপাতালে গিয়েও ভ্যাকসিন পাননি। জীবনের তাগিদে বাধ্য হয়ে বাজার থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনতে হয়েছে। একই রকম অভিজ্ঞতা আরিফ মোল্লার মেয়েরও। আড়পাড়া গ্রামের উম্মে আসমা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে এসেছেন। এমন অসংখ্য রোগী প্রতিদিন হাসপাতাল থেকে হতাশ হয়ে ফিরছেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অরুন কুমার জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সংকটের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তিনি মাত্র এক সপ্তাহ আগে নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। তার পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বকালে উপজেলা থেকে ভ্যাকসিন কেনার জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। তবে, তার দাবি, ভ্যাকসিন কেনা না হলেও এই টাকা গচ্ছিত আছে এবং ভ্যাকসিনের মূল্য বেশি হওয়ায় কেনা হয়নি।
অন্যদিকে, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, প্রায় দুই মাস আগে হাসপাতালে ভ্যাকসিন কেনার জন্য ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। তবে, এখনো কেনা হয়নি, এ তথ্য তার জানা ছিল না। এ টাকা কী করা হয়েছে বা কেন কেনা হয়নি, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন বলে জানান তিনি।
জীবনের জন্য অপরিহার্য এই ভ্যাকসিন নিয়ে এমন টালবাহানা এবং অর্থ লোপাটের অভিযোগ জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
রিপোর্টারের নাম 





















