ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে ৬.২৯ শতাংশ

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশে— যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এই প্রবৃদ্ধি কমতে থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর)  প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে নতুন ব্যবসায় উদ্যোগ ও বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমেছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার এবং বিদেশি বিনিয়োগে মন্দা—এই তিনটি কারণ মিলেই ঋণ প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতি সৃষ্টি করেছে।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) সব সূচকই ছিল নেতিবাচক। নতুন করে ইক্যুইটি বিনিয়োগ বা বিদেশি মূলধন প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। একইসঙ্গে মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খোলার হারও হ্রাস পেয়েছে, যা বিনিয়োগ কর্মকাণ্ডের মন্থরতার ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরা অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছেন। তবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে নতুন বিনিয়োগে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তখন মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়বে, আর সেই সঙ্গে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধিও পুনরুদ্ধার হবে।”

অপরদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়— ঋণের সুদের হারও সহনীয় মাত্রায় আনতে হবে। বর্তমানে উচ্চ সুদের কারণে অনেক উদ্যোক্তা ব্যাংক ঋণ নিয়ে নতুন প্রকল্পে হাত দিতে অনাগ্রহী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করেন, রিজার্ভ বৃদ্ধির ইতিবাচক দিক থাকলেও রাজনৈতিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তা কেটে না গেলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দ্রুত পুনরুদ্ধার হওয়া কঠিন হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে অবৈধ দখল উচ্ছেদ: যানজট ও ভোগান্তি কমাতে সিটি কর্পোরেশনের অভিযান

সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে ৬.২৯ শতাংশ

আপডেট সময় : ১০:০৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশে— যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এই প্রবৃদ্ধি কমতে থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর)  প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে নতুন ব্যবসায় উদ্যোগ ও বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমেছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার এবং বিদেশি বিনিয়োগে মন্দা—এই তিনটি কারণ মিলেই ঋণ প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতি সৃষ্টি করেছে।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) সব সূচকই ছিল নেতিবাচক। নতুন করে ইক্যুইটি বিনিয়োগ বা বিদেশি মূলধন প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। একইসঙ্গে মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খোলার হারও হ্রাস পেয়েছে, যা বিনিয়োগ কর্মকাণ্ডের মন্থরতার ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরা অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছেন। তবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে নতুন বিনিয়োগে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তখন মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়বে, আর সেই সঙ্গে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধিও পুনরুদ্ধার হবে।”

অপরদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়— ঋণের সুদের হারও সহনীয় মাত্রায় আনতে হবে। বর্তমানে উচ্চ সুদের কারণে অনেক উদ্যোক্তা ব্যাংক ঋণ নিয়ে নতুন প্রকল্পে হাত দিতে অনাগ্রহী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করেন, রিজার্ভ বৃদ্ধির ইতিবাচক দিক থাকলেও রাজনৈতিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তা কেটে না গেলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দ্রুত পুনরুদ্ধার হওয়া কঠিন হবে।