সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির পরিণতি কী হবে, তা জানতে চেয়ে ওয়াশিংটনকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের নতুন সরকার। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, সোমবারের মধ্যে এই চিঠি পাঠানো হতে পারে। মূলত মার্কিন আদালতের রায়ের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে শনিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চুক্তির বিভিন্ন দিক ও বাংলাদেশের করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া এই চুক্তিটি নিয়ে দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ‘কঠোর’ এবং একপাক্ষিক একটি চুক্তি, যাতে বাণিজ্যের চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য, ১৫ বছরে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের এলএনজি আমদানি এবং বিমানের জন্য ১৪টি বোয়িং কেনার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাকে বাংলাদেশের নীতিগত স্বাধীনতার পরিপন্থি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম একে ‘চাপিয়ে দেওয়া শর্ত’ হিসেবে অভিহিত করে দ্রুত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান এই চুক্তিকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কথা বলা হলেও রপ্তানিকারকদের মধ্যে রয়েছে ধোঁয়াশা। মার্কিন তুলা ব্যবহারের শর্তে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি অস্পষ্ট বলে দাবি করেছেন বিকেএমইএ ও ডিসিসিআই-এর সাবেক নেতারা। এছাড়া পোল্ট্রি ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন মানদণ্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ায় দেশীয় শিল্প ও খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে কেউ কেউ মনে করছেন, এই চুক্তি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার পথ সুগম করতে পারে। সব মিলিয়ে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই বিশাল অংকের বাণিজ্যিক প্রতিশ্রুতি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























