ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

কর্ণফুলীতে রাজনৈতিক সংঘাত: তারাবির পর হামলা, আহত ৯, উত্তেজনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। শুক্রবার তারাবির নামাজের পর বড়উঠান ফাজিল খার হাটবাজার এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর যুবসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের ৮ জন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। পাল্টা হামলায় জামায়াতের যুবসংগঠনের একজন কর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য শাহেদুল আলম টিটু, বড়উঠান ইউনিয়ন কৃষকদলের সদস্য মঞ্জুর আলম, ছাত্রদল নেতা মো. ইমন, যুবদল নেতা মো. ফারুক, মানিক, ছাত্রদল নেতা মো. রিয়াদ, মো. রাকিব এবং আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর রাতেই ফাজিল খার হাট বাজারস্থ পিএবি সড়কে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী প্রতিবাদ মিছিল বের করে। পরে কর্ণফুলী জোন সহকারী কমিশনার, এসপি এবং পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ১২টার পর শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসেও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের সামনে সড়ক অবরোধ করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ দুপুর দুইটায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপি।

ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযোগ:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৌলতপুর দীঘির পাড় ৩নং ওয়ার্ডের একটি ভোটকেন্দ্রে এক হিন্দু ভোটারকে মারধর করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এই ঘটনার জের ধরেই তারাবির নামাজের পর স্থানীয় জামায়াতের যুবসংগঠনের সেক্রেটারি মো. আলমগীরের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এস এম ফারুক হোসেন অভিযোগ করেছেন, সংসদ নির্বাচনে হিন্দু পাড়ার সর্বোচ্চ ভোটার দেখে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এই ঘটনার রেশ ধরে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী দৌলতপুর জামে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে জামায়াতের যুবসংগঠনের সেক্রেটারির নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও জামায়াতের কর্মীরা তাদের কর্মীদের ওপর রামদা, কিরিচ এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

অন্যদিকে, কর্ণফুলী জামায়াতের আমির জানিয়েছেন, নির্বাচনের দিন এক হিন্দু ছেলের সঙ্গে মামুন নামে তাদের এক কর্মীর কথাকাটাকাটি হয়েছিল, যা সেসময় মিটমাট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে যুবদলের টিটু নামের এক নেতার নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি দল মামুনের বাড়িতে হামলা করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এই হামলায় এনাম নামের জামায়াতের এক কর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

আইনি ব্যবস্থা:

কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার (এসপি) মো. জামাল উদ্দীন চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

কর্ণফুলীতে রাজনৈতিক সংঘাত: তারাবির পর হামলা, আহত ৯, উত্তেজনা

আপডেট সময় : ১১:১৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। শুক্রবার তারাবির নামাজের পর বড়উঠান ফাজিল খার হাটবাজার এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর যুবসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের ৮ জন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। পাল্টা হামলায় জামায়াতের যুবসংগঠনের একজন কর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য শাহেদুল আলম টিটু, বড়উঠান ইউনিয়ন কৃষকদলের সদস্য মঞ্জুর আলম, ছাত্রদল নেতা মো. ইমন, যুবদল নেতা মো. ফারুক, মানিক, ছাত্রদল নেতা মো. রিয়াদ, মো. রাকিব এবং আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর রাতেই ফাজিল খার হাট বাজারস্থ পিএবি সড়কে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী প্রতিবাদ মিছিল বের করে। পরে কর্ণফুলী জোন সহকারী কমিশনার, এসপি এবং পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ১২টার পর শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসেও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের সামনে সড়ক অবরোধ করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ দুপুর দুইটায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপি।

ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযোগ:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৌলতপুর দীঘির পাড় ৩নং ওয়ার্ডের একটি ভোটকেন্দ্রে এক হিন্দু ভোটারকে মারধর করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এই ঘটনার জের ধরেই তারাবির নামাজের পর স্থানীয় জামায়াতের যুবসংগঠনের সেক্রেটারি মো. আলমগীরের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এস এম ফারুক হোসেন অভিযোগ করেছেন, সংসদ নির্বাচনে হিন্দু পাড়ার সর্বোচ্চ ভোটার দেখে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এই ঘটনার রেশ ধরে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী দৌলতপুর জামে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে জামায়াতের যুবসংগঠনের সেক্রেটারির নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও জামায়াতের কর্মীরা তাদের কর্মীদের ওপর রামদা, কিরিচ এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

অন্যদিকে, কর্ণফুলী জামায়াতের আমির জানিয়েছেন, নির্বাচনের দিন এক হিন্দু ছেলের সঙ্গে মামুন নামে তাদের এক কর্মীর কথাকাটাকাটি হয়েছিল, যা সেসময় মিটমাট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে যুবদলের টিটু নামের এক নেতার নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি দল মামুনের বাড়িতে হামলা করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এই হামলায় এনাম নামের জামায়াতের এক কর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

আইনি ব্যবস্থা:

কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার (এসপি) মো. জামাল উদ্দীন চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।