মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

কওমি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা: জামায়াত করলে কেন প্রশ্ন, সেক্যুলার দলে নয় কেন – মুফতি উসামা

ইসলামিক স্কলার ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, ‘জামায়াতের আকিদা খারাপ’ বলে যে দাবি করা হয়, তা নির্জলা মিথ্যাচার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত একটি রাজনৈতিক দল, যেখানে দেওবন্দি, মাদানি, আজহারিসহ বহু শিক্ষাধারার লোক রয়েছে। হানাফি, লা মাজহাবি, সুন্নি, তাবলিগিসহ বহু মাসলাকের লোক এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমনকি একজন হিন্দু ব্যক্তিও জামায়াতের এমপি প্রার্থী হয়েছেন। সুতরাং কোনো সুনির্দিষ্ট আকিদাকে জামায়াতের সব নেতাকর্মীর আকিদা বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

‘কওমি শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানে উদ্বিগ্ন হেফাজত’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। রোববার মুফতি উসামা আরও বলেন, আকিদা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু দ্বীন কায়েমের রাজনীতি সবার। জামায়াত কখনো বলে না যে তারা মওদুদির আকিদা পোষণ করে। জামায়াতের গঠনতন্ত্রেই আছে, কুরআন ও সহিহ হাদিসে নির্দেশিত আকিদাই হবে জামায়াতের আকিদা। এরপরও জামায়াতের বিরোধিতা মূলত আদর্শিক নয়, বরং রাজনৈতিক। তিনি অভিযোগ করেন, এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে সেক্যুলারদের থেকে বিভিন্ন সুবিধা লাভ করা হয়।

মুফতি উসামা প্রশ্ন তোলেন, কওমি একটি শিক্ষাধারা; কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ‘কওমি’ নয়। কওমিতে পড়াশোনা করে যে কেউ যেকোনো রাজনৈতিক দল করতে পারেন। এ জন্য কওমি আকাবির আল্লামা আতাহার আলী খানসহ অনেকে বিগত দিনে বিএনপি করেছেন এবং ধানের শীষ নিয়ে এমপিও হয়েছেন। জাতীয় মসজিদের সাবেক খতিব, কওমি বোর্ড আল-হাইয়াতুল উলয়ার শীর্ষ নেতা এবং গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা রুহুল আমিন বিগত আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন এবং ড. আবু রেজা নদবি এমপিও হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সেক্যুলারিজম সুস্পষ্ট কুফর। এরপরও সেক্যুলার দল করলে যদি ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াত করলে কেন ‘কওমিত্ব’ যাবে? মুফতি উসামা নিজের দেওবন্দি পরিচয় তুলে ধরে বলেন, তিনি দেওবন্দি ছিলেন, আছেন এবং চিরকাল থাকবেন। তিনি একাধিক কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালক ছিলেন এবং সহিহ বুখারি, তিরমিজি, মিশকাত, ফাতাওয়া শামি-সহ বহু গ্রন্থের দারস দান করেছেন। আগামীতেও কওমি মাদরাসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার নিয়ত রয়েছে এবং কাউকে জোর করে কওমি থেকে খারেজ করে দেওয়ার সুযোগ নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ’: উদ্ভাবক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের

কওমি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা: জামায়াত করলে কেন প্রশ্ন, সেক্যুলার দলে নয় কেন – মুফতি উসামা

আপডেট সময় : ০৬:২১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামিক স্কলার ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, ‘জামায়াতের আকিদা খারাপ’ বলে যে দাবি করা হয়, তা নির্জলা মিথ্যাচার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত একটি রাজনৈতিক দল, যেখানে দেওবন্দি, মাদানি, আজহারিসহ বহু শিক্ষাধারার লোক রয়েছে। হানাফি, লা মাজহাবি, সুন্নি, তাবলিগিসহ বহু মাসলাকের লোক এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমনকি একজন হিন্দু ব্যক্তিও জামায়াতের এমপি প্রার্থী হয়েছেন। সুতরাং কোনো সুনির্দিষ্ট আকিদাকে জামায়াতের সব নেতাকর্মীর আকিদা বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

‘কওমি শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানে উদ্বিগ্ন হেফাজত’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। রোববার মুফতি উসামা আরও বলেন, আকিদা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু দ্বীন কায়েমের রাজনীতি সবার। জামায়াত কখনো বলে না যে তারা মওদুদির আকিদা পোষণ করে। জামায়াতের গঠনতন্ত্রেই আছে, কুরআন ও সহিহ হাদিসে নির্দেশিত আকিদাই হবে জামায়াতের আকিদা। এরপরও জামায়াতের বিরোধিতা মূলত আদর্শিক নয়, বরং রাজনৈতিক। তিনি অভিযোগ করেন, এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে সেক্যুলারদের থেকে বিভিন্ন সুবিধা লাভ করা হয়।

মুফতি উসামা প্রশ্ন তোলেন, কওমি একটি শিক্ষাধারা; কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ‘কওমি’ নয়। কওমিতে পড়াশোনা করে যে কেউ যেকোনো রাজনৈতিক দল করতে পারেন। এ জন্য কওমি আকাবির আল্লামা আতাহার আলী খানসহ অনেকে বিগত দিনে বিএনপি করেছেন এবং ধানের শীষ নিয়ে এমপিও হয়েছেন। জাতীয় মসজিদের সাবেক খতিব, কওমি বোর্ড আল-হাইয়াতুল উলয়ার শীর্ষ নেতা এবং গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা রুহুল আমিন বিগত আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন এবং ড. আবু রেজা নদবি এমপিও হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সেক্যুলারিজম সুস্পষ্ট কুফর। এরপরও সেক্যুলার দল করলে যদি ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াত করলে কেন ‘কওমিত্ব’ যাবে? মুফতি উসামা নিজের দেওবন্দি পরিচয় তুলে ধরে বলেন, তিনি দেওবন্দি ছিলেন, আছেন এবং চিরকাল থাকবেন। তিনি একাধিক কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালক ছিলেন এবং সহিহ বুখারি, তিরমিজি, মিশকাত, ফাতাওয়া শামি-সহ বহু গ্রন্থের দারস দান করেছেন। আগামীতেও কওমি মাদরাসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার নিয়ত রয়েছে এবং কাউকে জোর করে কওমি থেকে খারেজ করে দেওয়ার সুযোগ নেই।