দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ও প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক। এটি ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকর্তার পরিবর্তে বেসরকারি খাতের একজন উদ্যোক্তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদানের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ, যা বর্তমান বিএনপি সরকারের বেসরকারি খাত-বান্ধব নীতির প্রতিফলন।
গত রোববার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সংগঠনটির পরবর্তী কার্যক্রম ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেন।
এর আগে গত ২৬ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-১ শাখার এক অফিস আদেশে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ১৭ ধারার আওতায় মো. ফজলুল হককে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। আদেশে সংগঠনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের স্বার্থে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী ১২০ দিনের মধ্যে বাণিজ্য সংগঠন আইন-২০২২, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৫, কোম্পানি আইন-১৯৯৪ এবং এফবিসিসিআইয়ের সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুসরণ করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের পর তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশ রয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর মো. ফজলুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান সরকারের দেওয়া দায়িত্ব অনুযায়ী ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচিত ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনতে তিনি যথাযথ চেষ্টা করবেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফেডারেশনের সদস্য, বৃহত্তর ব্যবসায়ী সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান। গত ২৭ জুন তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রায় দেড় মাস পদটি শূন্য ছিল। বিগত সরকার আমলে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ থাকলেও আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে গত ফেব্রুয়ারিতে তার মেয়াদ আরও চার মাস বাড়ানো হয়েছিল, যা ২৬ জুন শেষ হয়।
রিপোর্টারের নাম 




















