আজকের বাংলাদেশ এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী, যেখানে একদা মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে আসা একজন ব্যক্তি দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে আসীন। এই ঘটনা যেমন বিস্ময় জাগিয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক মহলে জন্ম দিয়েছে গভীর আলোচনার: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো দুই কিংবদন্তি নেতার বিশাল ব্যক্তিত্বের বলয় ভেদ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তোলা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
একইভাবে, একজন গৃহিণী থেকে রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের ছায়া পেরিয়ে ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপ্রকাশও ছিল এক অসাধারণ সংগ্রামের ফল। তাঁর নেতৃত্বগুণে তিনি সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন আন্দোলনে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, তাদের উত্তরসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য নিজস্ব রাজনৈতিক সত্তা নির্মাণ নিঃসন্দেহে আরও কঠিন এক পরীক্ষা ছিল।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্যতিক্রমী নেতৃত্বগুণ এবং সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পথচলাকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। একজন সামরিক জেনারেল থেকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শীর্ষস্থান অর্জনের তার অসাধারণ যাত্রা, অতুলনীয় সততা, সরলতা, স্বজনপ্রীতি পরিহারের নীতি, সময়ানুবর্তিতা, গভীর দেশপ্রেম, মহান আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস, জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় আস্থা, উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রবর্তনা (যেমন খাল খনন, মৎস্য ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পোশাক শিল্প ও নারী উন্নয়নে গুরুত্বারোপ), ভিন্ন মত ও পথের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দলীয় গণ্ডির বাইরে যোগ্য ও মেধাবীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের মতো গুণাবলী তাকে এক বিরল সম্মানের আসনে বসিয়েছিল। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে একটি রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করলেও, দলীয় নেতা-কর্মীদের দুর্নীতিতে জড়ানো বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিকীকরণের সুযোগ দেননি।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের এক ক্রান্তিকালে নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন এবং অসংখ্য প্রতিকূলতা সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব দেশের ভিত্তি সুদৃঢ় করে। স্বামীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এক চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়াও রাজনীতির হাল ধরেন। সামরিক স্বৈরাচারী শাসনের সকল দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে তিনি রাজপথের ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। এই দুই নেতারই একটি অসাধারণ ক্ষমতা ছিল—বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতাদর্শের অনুসারীদের একই ছাতার নিচে আনতে পারার বিরল দক্ষতা।
রিপোর্টারের নাম 























