ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিবেদন বরাবরই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। দৃশ্যত নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের উচ্চ মান বজায় রাখলেও, প্রশ্ন ওঠে এদের প্রতিবেদনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে। অনেকের মনে এই প্রশ্ন জাগে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো কি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক ধারা বা গোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ সহানুভূতি রাখে, যারা হয়তো মূলধারার জনমতের থেকে কিছুটা ভিন্ন অবস্থানে?
পর্যবেক্ষকদের মতে, টিআইবির নিরপেক্ষতা প্রদর্শনের কৌশলটি বেশ সুচিন্তিত। যেমন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গত ১৬ বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠলেও, টিআইবির দিক থেকে এ বিষয়ে তেমন জোরালো প্রতিবাদ বা উচ্চবাচ্য দেখা যায়নি। বরং কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মৃদু সমালোচনা করেই তারা নিজেদের নিরপেক্ষতার সনদ হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়। সরকারের পক্ষ থেকে সেই সমালোচনার কড়া জবাব বা বিরোধিতা এ কৌশলকে আরও মজবুত করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মাহফুজ আনামের ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয় কলামে এর প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়, যেখানে তিনি বিভিন্ন সরকারের আমলে টিআইবিকে ‘খলনায়ক’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টিকে এক ধরনের সন্তুষ্টি হিসেবেই তুলে ধরেছেন।
তবে এই ‘মৃদু সমালোচনা’র কৌশলটি টিআইবির অতীতের ভূমিকার সঙ্গে তুলনা করলে ভিন্ন চিত্র সামনে আসে। ২০০১ সাল থেকে পরপর তিনবার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে টিআইবি তৎকালীন জোট সরকারকে প্রবলভাবে বিব্রত করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রতিবেদন সে সময় দেশের রাজনৈতিক পটভূমি, বিশেষ করে তথাকথিত এক-এগারোর প্রেক্ষাপট তৈরিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ফলে, কখন কাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বা কোন ইস্যুতে কতটা সরব হওয়া হবে, তা একটি বিশেষ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ থেকেই নির্ধারিত হয় বলে অনেকে মনে করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত টিআইবির একটি প্রতিবেদন তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে বিরোধী দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট বার্তা বা পর্যবেক্ষণ থাকলেও, অনেকের চোখ এড়িয়ে যাওয়া একটি দিক হলো ক্ষমতাসীন দলের জন্য এতে নিহিত সম্ভাব্য সুবিধা বা বার্তা। পাঠক মহলে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে যে, এই প্রতিবেদনের আড়ালে কোন রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবই বা কী হতে পারে?
রিপোর্টারের নাম 























