ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৬ এপ্রিল, গৃহকর্মী দম্পতির স্বীকারোক্তি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর মা ও মেয়ে হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার ও তার স্বামী রাব্বি ইতোমধ্যে আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক সহিদুল ওসমান মাসুম প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এরপর শুনানি শেষে আদালত নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ৫ ডিসেম্বর আসামি আয়েশা বাদী আজিজুল ইসলামের বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ঘটনার দিন, অর্থাৎ ৮ ডিসেম্বর সকালে বাদী তার কর্মস্থল উত্তরায় চলে যান। সেখান থেকে একাধিকবার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। নিরুপায় হয়ে সকাল ১১টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে আসেন এবং দেখতে পান, তার স্ত্রী মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং তার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেইন গেটের দিকে পড়ে আছে, যার গলার ডান দিকে কাটা। মেয়ের ওই অবস্থা দেখে পরিছন্নতাকর্মী মো. আশিকের মাধ্যমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বাদী দেখতে পান, গৃহকর্মী আয়েশা সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে কাজ করার জন্য বাসায় আসেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের সময় তার মেয়ের একটি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, অর্থসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চলে যান। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর বাদী নিশ্চিত হন যে, অজ্ঞাত কারণে সকাল ৭টা ৫১ থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় তার স্ত্রী ও মেয়েকে ছুরি অথবা অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করা হয়।

এদিকে, এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার ও তার স্বামী রাব্বি আদালতে নিজেদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীপুরে ১২ বিঘার সূর্যমুখী বাগান: কৃষি ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৬ এপ্রিল, গৃহকর্মী দম্পতির স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় : ০৬:০৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর মা ও মেয়ে হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার ও তার স্বামী রাব্বি ইতোমধ্যে আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক সহিদুল ওসমান মাসুম প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এরপর শুনানি শেষে আদালত নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ৫ ডিসেম্বর আসামি আয়েশা বাদী আজিজুল ইসলামের বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ঘটনার দিন, অর্থাৎ ৮ ডিসেম্বর সকালে বাদী তার কর্মস্থল উত্তরায় চলে যান। সেখান থেকে একাধিকবার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। নিরুপায় হয়ে সকাল ১১টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে আসেন এবং দেখতে পান, তার স্ত্রী মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং তার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেইন গেটের দিকে পড়ে আছে, যার গলার ডান দিকে কাটা। মেয়ের ওই অবস্থা দেখে পরিছন্নতাকর্মী মো. আশিকের মাধ্যমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বাদী দেখতে পান, গৃহকর্মী আয়েশা সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে কাজ করার জন্য বাসায় আসেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের সময় তার মেয়ের একটি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, অর্থসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চলে যান। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর বাদী নিশ্চিত হন যে, অজ্ঞাত কারণে সকাল ৭টা ৫১ থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় তার স্ত্রী ও মেয়েকে ছুরি অথবা অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করা হয়।

এদিকে, এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার ও তার স্বামী রাব্বি আদালতে নিজেদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।