দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবকত্বে এসেছে বড় পরিবর্তন। নতুন সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। নতুন এই সূচনায় ক্রীড়াঙ্গনের সর্বমহল থেকে তাকে অভিনন্দন জানানো হলেও, দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রীড়া সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বইছে অস্থিরতার হাওয়া। নতুন প্রশাসনের আগমনে বিসিবির বর্তমান নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের চাপা আতঙ্ক বা ‘রেড অ্যালার্ম’ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আমিনুল হক তাঁর অনমনীয় অবস্থানের জানান দিয়েছেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম প্রশাসনিক নির্দেশটিই ছিল বিসিবিকেন্দ্রিক। দীর্ঘ দিন ধরে বিসিবিতে সংবাদকর্মীদের প্রবেশে যে ‘অযৌক্তিক’ বিধিনিষেধ ছিল, দায়িত্ব পালনের প্রথম প্রহরেই তিনি তা বাতিলের নির্দেশ দেন। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সরাসরি ফোনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর এমন তড়িৎ ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ক্রীড়া মহলে প্রশংসিত হলেও বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বিসিবি সংশ্লিষ্টদের এই উদ্বেগের মূলে রয়েছে গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচন। সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বোর্ড যে প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় এসেছে, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এমনকি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেও তিনি বিসিবি নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সুর শোনা গেছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের কাউন্সিলর ও বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের কণ্ঠেও। সরকারের দুজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির এমন কঠোর অবস্থান বিসিবিতে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, বিসিবির গত নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করে ইতোমধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধী পক্ষের ক্লাব সংগঠকরা। তারা বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের অপেক্ষায় আছেন। তবে এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়মকানুন এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকেও মাথায় রাখছেন তারা। তাদের লক্ষ্য, সরকারি সরাসরি হস্তক্ষেপ এড়িয়ে আইনি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বোর্ডে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা।
বর্তমান বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা এই মুহূর্তে ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ শঙ্কিত। বিসিবির একাধিক পরিচালক ও সহ-সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তাদের কথায় স্পষ্ট যে, প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তাঁর আগের অবস্থানে অনড় থাকলে বোর্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন অনিবার্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরিচালক জানিয়েছেন, ক্লাব পর্যায়ে তাদের বর্তমান সম্পর্কের যে টানাপোড়েন, তাতে পুনরায় নির্বাচন হলে টিকে থাকা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
সব মিলিয়ে, ক্রীড়াঙ্গনের নতুন নেতৃত্বের আগমনে বিসিবিতে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, তা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিপদের সংকেত বুঝতে পেরে বিসিবির অন্দরমহলে এখন কেবলই সম্ভাব্য রদবদলের শঙ্কা আর অস্থিরতার গুঞ্জন।
রিপোর্টারের নাম 

























